গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ষোড়শ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ পাওয়ার প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রের আশা, এ বারের অর্থ কমিশনের বরাদ্দের নতুন কিছু শর্ত বা দিক রয়েছে। সংস্কার সংক্রান্ত যে বিষয়গুলি নিয়ে বিগত সরকার অনড় অবস্থানে ছিল, বিজেপি সরকারের অবস্থান তার থেকে ভিন্ন। ফলে গ্রামোন্নয়ন এবং পরিকাঠামো খাতে বিপুল বরাদ্দের আশা করছে নবান্ন। পাশাপাশি, রাজস্ব-রাজকোষ ঘাটতি এবং ঋণের বোঝা কমানোর ‘চাপ’ সামলালে বরাদ্দের অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার আশা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রস্তুতি রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
সম্প্রতি লিখিত ভাবে পঞ্চায়েত দফতর সব জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের মতো ‘রুরাল লোকাল বডি’-গুলিকে (আরএলবি) অর্থ কমিশনের বরাদ্দের জন্য দ্রুত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সেই পদক্ষেপের পরে অর্থ দফতরের অনুমোদন নিয়ে নথিবদ্ধ হতে হবে নির্দিষ্ট পোর্টালে।গোটা কাজটা শেষ করে ফেলতে হবে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে। তা নিয়ে শংসাপত্রও দিতে হবে জেলাশাসক অথবা অতিরিক্ত জেলাশাসককে। নতুন তথা ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশক্রমে এ বছর গোটা দেশে সংগ্রহ হওয়া করের ৪১% বা ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা ভাগ করে দেওয়া হবে রাজ্যগুলির মধ্যে। ষোড়শ অর্থ কমিশনের বিচারে এ রাজ্য করের ভাগ পাবে ৭.২% ভাগ। যদিও চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনেরতুলনায় তা কিছুটা কমই।
তবে অর্থ কমিশনের তরফে তুলনায় বেশি বরাদ্দ পেয়ে থাকে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতগুলি। তাতে প্রায় ৪.৪ লক্ষ কোটি টাকা গোটা দেশের গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদগুলির মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা আগামী পাঁচ বছরে। তার মধ্যে সবচেয়েবেশি বরাদ্দ (৮০%) থাকে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে। বাকি ১০% করে পাবে পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদগুলি। মোট বরাদ্দের ৫০% জল-নিকাশি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নির্দিষ্ট কিছু কাজে ব্যবহার করা যাবে। বাকি অর্থ ছোট পরিকাঠামো-সহ অন্যান্য কাজে লাগানো যাবে। অর্থ কমিশনের বরাদ্দ রয়েছে পুরসভাগুলিতেও।
প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, আগামী পাঁচ বছরে (২০২৬-৩১) গ্রামীণ স্তরে মূল বরাদ্দ, পঞ্চায়েত এবং রাজ্যের অগ্রগতির নিরিখে প্রায় ২৮ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অনুদান (গ্রান্ট-ইন-এড) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শহর এলাকার ক্ষেত্রে প্রধানত পুরসভাগুলির জন্য মূল বরাদ্দ, পুরসভাএবং রাজ্যের অগ্রগতির নিরিখে প্রায় ২২ কোটি টাকা পেতে পারে রাজ্য। এই দু’টি ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার আশা রয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা খাতেও রাজ্যের ভাগে কেন্দ্রের অনুদান আসতে পারে ৬,৮৬৯ কোটি টাকা। প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, বিগত পাঁচ বছরে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আওতায় পঞ্চায়েত এবং পুরসভা স্তরে এ রাজ্য পেয়েছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে নতুন অর্থ কমিশনের আওতায় প্রায় তিন গুণ অর্থ পাওয়ারসম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জেলা-প্রশাসনগুলির সূত্রে জানা যাচ্ছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার পাশাপাশি, কাজের পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে নিয়েই সেই পরিকল্পনা করার কথা জেলা-কর্তাদের। তার ভিত্তিতেই বরাদ্দ এবং অর্থপ্রাপ্তি হবে। অভিজ্ঞ কর্তাদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দগুলির সামনে যেমন জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তেমনই আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল এই বরাদ্দ নিয়েও। যদিও তা অবাধ রেখেছিল কেন্দ্র। তবে বিগত অর্থ কমিশনের আওতায় পাওয়া অর্থের একাংশ খরচ না হওয়ার অভিযোগও উঠেছিল সে সময়ে। ফলে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহারের প্রশ্নে শুরু থেকেকড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। বিগত প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন দফতর এবংজেলা প্রশাসনের কর্তাদের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে