বেসরকারি বাসে আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবহণ দফতর। —ফাইল চিত্র।
গত কয়েক মাসে একাধিক চলন্ত বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তাতে কারও মৃত্যু না হলেও, বাসের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি দুই ক্ষেত্রের বাসের এ হেন ক্ষতি ভাবাচ্ছে পরিবহণ দফতরকে। তাই এ বার উদ্যোগী হয়ে চলন্ত বাসে আগুন লাগার ঘটনা রুখতে চাইছেন দফতরের শীর্ষকর্তারা। তাই এ বিষয়ে বেসরকারি বাসমালিকদের মতামত জানতে চেয়েছে পরিবহণ দফতর।
প্রথম দিকে কেবল সরকারি বাসে আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বিগ্ন ছিল পরিবহণ দফতর। কিন্তু গত তিন-চার মাসে প্রায় ছ’টি বেসরকারি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তাতেই নড়েচড়ে বসেছে পরিবহণ দফতর। তাই এই সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে মৌখিক ভাবে বেসরকারি বাসমালিকদের মতামত জানতে চাইছে রাজ্য সরকার। সেই পর্যায়েই পরিবহণ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা এই বিষয়ে বেসরকারি বাস সংগঠনগুলির মতামত নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ করতে চান।
পরিবহণ দফতরের তরফে তাঁদের মতামত জানতে চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন সিটি সাবআর্বান বাস সার্ভিসেসের নেতা টিটু সাহা। তিনি বলেন, “পরিবহণ দফতর মৌখিক ভাবে আমাদের কাছে বাসে আগুন লেগে যাওয়ার কারণ ও তার প্রতিকার নিয়ে মতামত জানতে চেয়েছে। আমরা যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, সেই সব বিষয়েই বিস্তারিত জানিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “পরিবহণ দফতরকে আমরা কী জানিয়েছি, তা প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয়। তবে এটুকু বলতে পারি, নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটি আগুন লাগার কারণ হতে পারে।”
সরকারি বাসে আগুন লাগার ঘটনা রুখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল পরিবহণ দফতর। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, রাজ্য সরকার বাস রক্ষণাবেক্ষণ ও যাত্রীনিরাপত্তা নিয়ে একটি নতুন এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোটোকল) তৈরি করবে। সেইমতো ভবিষ্যতে সব সরকারি বাসের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রয়োজনে বেসরকারি সংস্থাগুলি, যারা এখন বাস মেরামতের কাজ করছে, তারাও বিশেষ প্রশিক্ষণ পাবে। কিন্তু বেসরকারি বাসে আগুন লাগার একাধিক ঘটনা ঘটায় আবার নতুন করে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে পরিবহণ দফতরকে।