ওঠবোসের গ্রামে ঘাসফুল ঢাকল পদ্মে

তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৫১১। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৫১৯। আর বামেরা ৩৪। 

Advertisement

বরুণ দে

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০১৯ ০৩:০২
Share:

কান ধরে কবিতার কান ধরে ওঠবোসের সেই দৃশ্য। ফাইল চিত্র

মাঝে মাত্র এক বছরের ব্যবধান। এ বার আর ঘাসফুল নয়, পদ্ম ফুটল বাগডুবিতে। সেই বাগডুবি, যেখানে তৃণমূলের ছাপ্পাভোটের প্রতিবাদ করায় বিবাহিত এক যুবতীকে জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়েছিল। কান ধরে ওঠবোসও করানো হয়েছিল শাসক দলের স্থানীয় কার্যালয়ের সামনে। লোকসভা ভোটের ফল বলছে, এলাকার বেশিরভাগ মানুষ এ বার তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘যে কাজ ওরা (তৃণমূল) করেছিল, তার যোগ্য জবাব পেয়ে গিয়েছে।’’

Advertisement

কী বলছেন নিগৃহীত সেই যুবতী কবিতা দাস? কবিতার কথায়, ‘‘আমি বিচারের অপেক্ষায় আছি।’’ কবিতার স্বামী গোপাল দাস বলছেন, ‘‘এলাকার মানুষ তৃণমূলকে হারিয়েছেন। আমরা খুশি। বিচারের জন্য লড়াই চলবে।’’ ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৮ সালের ১৭ মে। আগের দিনই পঞ্চায়েত ভোটের ফল বেরিয়েছিল। পঞ্চায়েত ভোটের ফল বেরোনোর পরের দিন কবিতাকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ডেকে জুতোর মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে তৃণমূলের স্থানীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েকশো বার কান ধরে ওঠবোসও করানো হয়েছিল। ভোটের দিনে ছাপ্পাভোট দেওয়ার প্রতিবাদ করেছিলেন কবিতা। ভাল চোখে দেখেননি শাসক দলের স্থানীয় নেতারা। ওই প্রতিবাদ করাতেই তাঁকে এ ভাবে হেনস্থা করা হয়েছিল।

বাগডুবি গ্রামটি মেদিনীপুর সদর ব্লকের কনকাবতী অঞ্চলের অন্তর্গত। সেদিন অনেকে ঘটনার সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু শাসক দলের ভয়ে কেউ টুঁ শব্দ করেননি। প্রতিবাদ তো দূরঅস্ত। ঘটনার পরে ওই যুবতীর পরিবার গৃহবন্দি হয়েছিল। কবিতারা তৃণমূলই করতেন। কবিতার স্বামী গোপাল এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য। ২০১৩ সালের ভোটে বাগডুবি থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন গোপাল। ২০১৮ সালেএই আসনটি মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় তিনি আর লড়েননি। তবে তৃণমূলের মহিলা প্রার্থীই জেতেন। তার পরেও নির্দলকে সমর্থন করেছেন এই সন্দেহে কবিতাকে হেনস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই বাগডুবির বুথে এ বার ‘লিড’ পায়নি তৃণমূল। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, এই বুথে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৪১০। বিজেপি পেয়েছে ৪৫৩ ভোট। আর বামেরা পেয়েছে ২২। পাশের বুথেও হেরেছে তৃণমূল। তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৫১১। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৫১৯। আর বামেরা ৩৪।

Advertisement

কনকাবতীর বিজেপি নেতা সুজয় দাস বলেন, ‘‘বাগডুবির বুথে তৃণমূল হেরেছে। এলাকার মানুষ ভোটেই ওদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন।’’ কনকাবতীর তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন, ‘‘সেদিনের ঘটনা দল সমর্থন করেনি। ভোটের ফল কেন এমন হল তা খতিয়ে দেখা হবে।’’ বিজেপির জেলা সম্পাদক অরূপ দাসের কথায়, ‘‘মহিলারা যে নিরাপদ নন, সেদিনের ঘটনা তারই এক উদাহরণ। ভোটেই এলাকার মানুষ তৃণমূলের গালে কষিয়ে চড় মেরেছে।’’ সব শুনে তৃণমূলের এক জেলা নেতার মন্তব্য, ‘‘দলটা প্রচুর আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। যুবতীকে এ ভাবে ওঠবোস করানোর ঘটনায় দলের মুখ পুড়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement