কাঁচরাপাড়ায় কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হচ্ছে তৃণমূল নেতাকে। ছবি: সংগৃহীত।
এ বার কাঁচরাপাড়া। হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে তৃণমূলের যুব নেতা অভিজিৎ রায় ওরফে বনিকে কাঁচরাপাড়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ঘোরালো বিজপুর থানার পুলিশ। তাঁর পরনে ছিল গেঞ্জি, হাফ-প্যান্ট। বৃহস্পতিবার পুলিশ বনিকে নিয়ে যায় বাবু কোয়ার্টার ও নবীন পল্লি এলাকায়, যাকে বনির ‘ডেরা’ বলেই দাবি স্থানীয়দের। সেখানে তাঁকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এ সব চত্বরে অসামাজিক কাজকর্ম চলত বনিরই নির্দেশে।
শনিবার রাতে মন্দারমনি থেকে বনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হলে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর পর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে নিয়ে যায় কাঁচরাপাড়ার বিভিন্ন এলাকায়। সেই সময় এলাকাবাসীদের একাংশ পিছন থেকে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ কোয়ার্টারের ভিতরে পুরসভার বালতি মজুত করে রাখা হত এবং সেগুলি বিক্রিও করা হত। পাশাপাশি, ওই কোয়ার্টারে কে থাকবেন, কে ঘর পাবেন— সব কিছুই বনির নির্দেশে চলত বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি, সেখানে অসামাজিক কাজকর্মও চলত বলেও অভিযোগ ওঠে।
যদিও বনি পাল্টা দাবি করে বলেন, “তৃণমূলের যে সব নেতা চুরি করেছে, তারা পালিয়ে গিয়েছে। আমি চুরি করিনি, তাই পালাইনি।” স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শুধু ৩ নম্বর ওয়ার্ড নয়, গোটা কাঁচরাপাড়া জুড়েই দীর্ঘ দিন ধরে বনির দৌরাত্ম্য চলত।
এর আগে হাওড়ায় তিন জনকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হয়। বোমাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা শমিম আহমেদ ওরফে বড়ে, তোলাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়া অস্থায়ী হোমগার্ড শাহিন মোল্লা এবং পুলিশের উপরে হামলাকারী ‘ডন’ আকাশ সিংহের স্যান্ডো গেঞ্জি এবং বক্সার পরিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরায় পুলিশ। পুলিশের একটা সূত্র জানায়, অপরাধীদের বার্তা দিতেই ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। এ বার কাঁচরাপাড়াতেও তা-ই হয়।