শতাব্দী রায়। ফাইল চিত্র।
পছন্দ নয় এনসিপিআই-এর কলমের নিবের চিহ্ন! আর তাই তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক পাওয়ার জন্য আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সদ্য তৃণমূল ভেঙে বেরোনো কুড়ি জনের সংসদীয় দলটি। রাজনৈতিক সূত্রে এ খবর মিলেছে।
দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের রাজনৈতিক প্রথম পর্ব শেষ হয়েছিল। তারই দ্বিতীয় পর্ব আজ শুরু হল কলকাতায়, শতাব্দী রায়ের বাড়িতে। এনসিপিআই-য়ে সদ্য যোগ দেওয়া সাংসদেরা আজ সন্ধ্যায় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলেন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথ। দলের অধিকাংশের মত, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা যে ভাবে তৃণমূলের চিহ্ন নিজেদের কাছে রাখলেন, এই বিদ্রোহীদেরও তাই করা উচিত ছিল। তাঁরা দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ হিসেবে তৃণমূলের নামেই স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিতে পারতেন। কিন্তু ২০ জন সাংসদ পাওয়া নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংশয় ছিল বলে তা করা যায়নি— এই আক্ষেপ আলোচনায় উঠে এসেছে।
আজ এনসিপিআই সূত্রের বক্তব্য, জোড়াফুল প্রতীকটি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ কী ভাবে হওয়া যায়, তা স্থির করতে দলের নেতারা কিছু দিনের মধ্যেই দিল্লিতে আসবেন। বিজেপি এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা হবে। এ ব্যাপারে বিজেপি সব রকম ভাবে এনসিপিই-র পাশে থাকবে, এমন আশ্বাস বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে। যদিও এখানে প্রশ্ন উঠছে, ঋতব্রতরা নিজেরা ‘প্রকৃত তৃণমূল’ এই মর্মে দলের প্রতীক চিহ্নের দাবি করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য একটি দলে (এনসিপিআই) মিশে গিয়ে কী ভাবে অন্য দলের (তৃণমূলের) প্রতীক চিহ্ন পাওয়া যায়, তা স্পষ্ট নয় এখনও। ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার নির্দল সাংসদ, আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেছেন, ‘‘কেউ এক দলের প্রতীকে জিতে এসে অন্য দলে যোগ দিতে পারে? তা হলে আর নির্বাচনের কী প্রয়োজন? কোনও সাংবিধানিক আইন এর নীতিগত অনুমতি দেয় না। এটা অসাংবিধানিক, অনৈতিক, বেআইনি। পরের লড়াই আদালতে!’’
পশ্চিমবঙ্গে পুরসভার ভোট ডিসেম্বরের মধ্যে হবে ধরে নিয়ে এনসিপিআই পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করতে চাইছে। আজকের বৈঠকে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কী ভাবে আসন বণ্টন হবে, কী পদ্ধতিতে লড়াই হবে, তা নিয়ে শীঘ্রই ফের আলোচনা হবে। সংসদে নতুন ঘর নির্দিষ্ট হওয়ার চিঠিও আজ এসে গিয়েছে এনসিপিআই-এর কাছে। এ বার দক্ষিণ কলকাতায় নতুন দলীয় অফিসের খোঁজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিদ্রোহীদের টাকা নেওয়া সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপিআই। রাজনৈতিক এবং আইনি— দু’রকম ভাবেই তাঁকে জবাব দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। কথা হয়েছে কীর্তি আজাদের কটূক্তি নিয়েও।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে