West Bengal Assembly

দুর্নীতিদমন, অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন থেকে বেআইনি দখল রুখতে অভিযান! ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

বিগত সরকারের আমলে অপরাধমূলক সিন্ডিকেট, তোলাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজবিরোধীদের চক্র গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। নতুন সরকার এ সবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে বলে বিধানসভায় জানান রাজ্যপাল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৪:৩৯
Share:

রাজ্যপাল আরএন রবি। — ফাইল চিত্র।

রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হল বৃহস্পতিবার। রীতি মেনে অধিবেশনে প্রারম্ভিক ভাষণ পাঠ করলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। দুর্নীতিদমন থেকে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, বেআইনি দখল উচ্ছেদ থেকে নারী নিরাপত্তা— রাজ্য সরকারের গত দেড় মাসের প্রায় প্রতিটি উদ্যোগই রাজ্যপাল ছুঁয়ে গেলেন তাঁর ভাষণে। ৩৬ মিনিটের ভাষণে বার বার প্রতিধ্বনিত হল ভয় কাটিয়ে ভরসায় ফেরার বার্তা।

Advertisement

নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বিজেপি বলে আসছিল, তারা ক্ষমতায় এলে ‘সুশাসন’ ফেরাবে রাজ্যে। ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগান তুলেছিল বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিবিধ পদক্ষেপও শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রারম্ভিক ভাষণের শুরুতেই আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (২০ জুন)-এর জন্য রাজ্যবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানান রাজ্যপাল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গত দেড় দশকে এই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গবাসী নতুন সরকারের পক্ষে স্পষ্ট জনমত দিয়েছে। রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভয় এবং হতাশার যে বাতাবরণ ছিল, তাকে স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্যবাসী।”

রাজ্যের নতুন সরকার ইতিমধ্যে যে উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে, সে কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। ভাষণে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন করবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বের বিষয়ে আমার সরকার অবগত।” তিনি আশ্বস্ত করেন রাজ্যে সকলের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। রাজ্যের প্রত্যেক সাধারণ মানুষ যাতে সম্মানের সঙ্গে স্বাধীন ভাবে দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারেন, তা-ও নতুন সরকার নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী তিনি।

Advertisement

বিগত সরকারের আমলে অপরাধমূলক সিন্ডিকেট, তোলাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজবিরোধীদের চক্র গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। নতুন সরকার এ সবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে বলে বিধানসভায় জানান রাজ্যপাল। বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, বেআইনি ভাবে কয়লা এবং বালি তোলা, মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচার এবং পাচারের কথা। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান আশ্বাস দেন, নতুন সরকার এই সবের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করবে। তিনি বলেন, “আমার সরকার আইনের শাসন ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।”

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু করেছে বিজেপির সরকার। সীমান্তে প্রহরা আরও আঁটোসাঁটো করতে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুভেন্দুর সরকারের এই উদ্যোগগুলির কথাও বিধানসভায় তুলে ঘরেন রাজ্যপাল। নাম না করে পূর্বতন সরকারের আমলকেও নিশানা করেন তিনি। রাজ্যপালের কথায়, “গত কয়েক দশক ধরে অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যের জনবিন্যাসের ভারসাম্য নষ্ট করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কারণে বৈধ নাগরিকদের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে আপস করা হয়েছে।” রাজ্যের মধ্যে থেকেই একটি শ্রেণি এই প্রক্রিয়ায় মদত দিয়েছিল বলে মনে করেন রাজ্যপাল। “আমার সরকার তাঁদের (অনুপ্রবেশকারীদের) চিহ্নিত করে দ্রুত বিতাড়ণের জন্য পদক্ষেপ করছে”, বলেন তিনি।

সরকারি জমিতে বেআইনি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বর্তমান রাজ্য সরকার যে অভিযান চালাচ্ছে, সে কথাও উঠে আসে রাজ্যপালের ভাষণে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের বিবিধ পদক্ষেপের কথাও আলাদা ভাবে উল্লেখ করেন রবি। রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “পুরনো কেসগুলি পুনরায় খোলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তের জন্য দু’টি কমিশন গঠন করা হয়েছে।” রাজ্যে আগামিদিনে শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। জানান, নতুন সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। সিঙ্গুরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুলে ধরেন জলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দর উন্নয়নে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথাও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement