খরচের খতিয়ানে সাফল্যের দামামা

অর্থমন্ত্রীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা এবং মূলধনী, দুই খাতেই উল্লেখযোগ্য হারে বরাদ্দ টাকা ব্যয় করেছে সরকার। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবর্ষে (২০১৭-’১৮) আর্থিক আয়-ব্যয়ের হিসেব সেটাই দেখাচ্ছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০১৮ ০৩:১২
Share:

অমিত মিত্র।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজ্যের আয় এবং বরাদ্দ টাকা ব্যয়ের ‘সাফল্য’ তুলে ধরল রাজ্য সরকার। সোমবার অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী জেলায় জেলায় ঘুরে যে-ভাবে প্রশাসনিক কাজকর্ম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তদারক করেছেন, এই সাফল্য তারই ফল। অর্থমন্ত্রীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা এবং মূলধনী, দুই খাতেই উল্লেখযোগ্য হারে বরাদ্দ টাকা ব্যয় করেছে সরকার। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবর্ষে (২০১৭-’১৮) আর্থিক আয়-ব্যয়ের হিসেব সেটাই দেখাচ্ছে।

Advertisement

অর্থ দফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী শেষ অর্থবর্ষে রাজ্যের নিজস্ব কর আদায়ের পরিমাণ ৭,৩০০ কোটি টাকা বেড়েছে। মোট কর আদায় বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। গত আর্থিক বছরে (২০১৬-’১৭) যা ছিল ৪৫ হাজার ৬৪৭ কোটি। উল্লেখযোগ্য ভাবে রাজ্যের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই মনে করছে অর্থ দফতর।

লক্ষণীয়, গত সাত বছরে রাজ্যে মূলধনী খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে সাড়ে আট গুণ। একই ভাবে ওই সময়ে পরিকল্পনা খাতে খরচ বেড়েছে পাঁচ গুণ। ২০১০-’১১ অর্থবর্ষে রাজ্যে মূলধনী খাতে যেখানে ব্যয় হয়েছিল ২২২৫ কোটি টাকার কিছু বেশি, সেখানে ২০১৭-’১৮ বছরের শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে এই খাতে খরচ হয়েছিল ১২ হাজার ২৮ কোটি। গত দু’বছরে শুধু মূলধনী খাতে খরচ বেড়েছে ৫৯ শতাংশ।

Advertisement

একই ভাবে গত দু’টি অর্থবর্ষের তুলনামূলক বিচার করলে পরিকল্পনা খাতেও রাজ্যের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। ২০১৬-’১৭ অর্থবর্ষে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৪৯ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। এ বছর খরচ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার কিছু বেশি। যদিও এই খাতে রাজ্যের খরচ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ শতাংশ। ২০১০-’১১ অর্থবর্ষে পরিকল্পনা খাতে রাজ্যের ব্যয় হয়েছিল ১১ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকার কিছু বেশি।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ায় সরকার কি এই তথ্যের মাধ্যমে সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরছে? উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘নতুন কোনও প্রকল্প বা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন ঘোষণা বা নির্বাচনী আচরণবিধির সঙ্গে এই তথ্যের কোনও সম্পর্ক নেই। ৩১ মার্চ ট্রেজারি বন্ধ হওয়ার পরে গোটা আর্থিক বছরের সামগ্রিক তথ্য জানানো হল।’’

টুইট-বার্তায় মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘নোট বাতিল এবং জিএসটি-র প্রতিকূল প্রভাব সত্ত্বেও গত আর্থিক বছরে আমরা উল্লেখযোগ্য ভাবে আর্থিক উন্নতি করতে পেরেছি।’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন