Nipah Virus in West Bengal

নিপা-আক্রান্ত দুই নার্সের অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও স্থিতিশীল! দুই জেলায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন

গত সোমবার দুই নার্সের নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ মেলে। তাঁদের মধ্যে এক জন মহিলা, অন্য জন পুরুষ। দু’জনেই বারাসতের একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে ওই হাসপাতালে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সের অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও আপাতত নতুন করে অবনতি ঘটেনি। তবে তাঁদের মধ্যে এক জন এখনও ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। অন্য জনকে ভেন্টিলেশন থেকে বার করা হয়েছে। যদিও তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে সজাগ নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা। রাজ্যে নতুন করে নিপায় কেউ আক্রান্ত হননি বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে ওই দুই নার্স কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের খুঁজে বার করে পরীক্ষা করার কাজও চলছে। বেশ কয়েক জনের পরীক্ষা করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে এখনও কারও শরীরে নিপা ভাইরাসের হদিস মেলেনি।

Advertisement

গত সোমবার দুই নার্সের নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলে। তাঁদের মধ্যে এক জন মহিলা, অন্য জন পুরুষ। দু’জনেই বারাসতের একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে ওই হাসপাতালেই। নমুনা পাঠানো হয়েছিল পুণেতে। রিপোর্টে দু’জনের শরীরে নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে। তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হওয়ায় দু’জনকেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হওয়ায় পুরুষ নার্সটিকে ভেন্টিলেশন থেকে বার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।

যে হেতু উত্তর ২৪ পরগনার ঘটনা, তাই এই জেলার বেশ কয়েক জনকে চিহ্নিত করে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা খতিয়ে দেখেন চিকিৎসকেরা। নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই জেলার এখনও পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি মানুষের নিপা ভাইরাসের পরীক্ষা করানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক দিনে কোনও না কোনও ভাবে তাঁরা সকলেই আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, প্রায় সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ, নিপায় আক্রান্তের খোঁজ মেলেনি। তবে এখনও দু’জনের রিপোর্ট আসা বাকি।

Advertisement

কী ভাবে ওই দুই নার্স আক্রান্ত হলেন, সেই কারণেরও খোঁজ চলছে। কোনও মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে কি না, সে দিকটাও নজরে রাখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই হাসপাতালে দিন কয়েক আগে এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনিও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব ছিলেন আক্রান্ত দুই নার্স। যদিও সেই ঘটনার পর ২১ দিন কেটে গিয়েছে।

নিপা-আক্রান্ত দুই নার্স কিছু দিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় গিয়েছিলেন। কাটোয়ায় তাঁরা কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তার সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করে সকলের স্বাস্থ্যের অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম। শুক্রবার পর্যন্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং পরিবারের সদস্য মিলিয়ে মোট ১০৩ জনকে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত সকলের রিপোর্টই নেগেটিভ। জয়রাম জানান, এখনও পর্যন্ত মোট ৮০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে ১৮ জনের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই এসেছে। প্রত্যেকেরই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, যা স্বস্তির কারণ।

পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আরও জানান, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক জন হাউসস্টাফকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তিনি আক্রান্ত এক নার্সের সরাসরি সংস্পর্শে (ক্লোজ কন্টাক্ট) এসেছিলেন। তবে তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। যদিও জেলা জুড়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সতর্কতা হিসাবে কাঁচা খেজুর রস না-খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জয়রামের কথায়, ‘‘নিপা ভাইরাস কোভিডের মতো অতটা সংক্রামক নয়, তবে কোভিডের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।’’ একই সঙ্গে তিনি জানান, এই পরিস্থিতি আতঙ্ক ছড়ানোর মতো নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি করার জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement