অধ্যক্ষের ইস্তফা নিয়ে দিনভর জল্পনা মালদহে

মালদহ কলেজের অধ্যক্ষের ইস্তফা নিয়ে জট খুলল না শুক্রবারেও। নিয়ম মতোই তাই এ দিন কলেজে এসে অধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন আব্দুল কালাম মহম্মদ আনুয়ারুজ্জামান। তাঁর দাবি, বুধবারই কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর কাছে পিওন মারফত ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:১২
Share:

মালদহ কলেজের অধ্যক্ষের ইস্তফা নিয়ে জট খুলল না শুক্রবারেও।

Advertisement

নিয়ম মতোই তাই এ দিন কলেজে এসে অধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন আব্দুল কালাম মহম্মদ আনুয়ারুজ্জামান। তাঁর দাবি, বুধবারই কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর কাছে পিওন মারফত ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন ই-মেল মারফৎ। কিন্তু দু’দিন পরেও আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি কোনও তরফেই।

তাঁর ইস্তফাপত্র প্রসঙ্গে এ দিন মালদহ কলেজ অডিটোরিয়ামে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বারবার পদত্যাগ করলে নিজের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। উনি (অধ্যক্ষ আনুয়ারুজ্জামান) যদি অধ্যক্ষ হিসেবে থাকতে চান, তাহলে থাকতে পারেন।’’

Advertisement

তবে কি অধ্যক্ষের ইস্তফা পত্র গ্রহণ করা হবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবু বলেন, ‘‘সেটা ওঁর উপরেই নির্ভর করবে। এখন উনি কী করবেন, সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত। আর যদি থাকতে না চান তখন আমরা ইস্তফাপত্র গ্রহণ করব।’’

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর উপরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ছেড়ে দিলেও এখনও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে মহম্মদ আনুয়ারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘পদে থাকব না বলেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছি। আমি আর এই পদে থাকতে চাই না। আমার ইস্তফাপত্র যেহেতু এখনও গ্রহণ করা হয়নি, তাই আমি কাজ করেছি। অন্য অধ্যক্ষ যোগ দিলে আমি অবশ্যই পদ থেকে সরে যাব।’’

পরিচালন কমিটির সভাপতি কৃষ্ণেন্দুবাবু অবশ্য এ দিনও জানিয়ে দেন কোনও ইস্তফাপত্রই পাননি তিনি।

অধ্যক্ষের ইস্তফার বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার দিনভরই জল্পনা চলেছে কলেজ চত্বরে। শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে সতর্ক এই অধ্যক্ষের জনপ্রিয়তা রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র বলেন, ‘‘পড়া নিয়ে সমস্যায় পড়লে সব সময় আমরা পাশে পেয়েছি স্যারকে। কলেজের উন্নয়নের জন্য এমন অধ্যক্ষের থাকার দরকার রয়েছে।’’

১৯৯৯ সালে ১১ মার্চ থেকে এই কলেজে ভুগোলের অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন আব্দুল কালাম মহম্মদ আনুয়ারুজ্জামান। কলেজ সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় প্রথম হওয়ায় পছন্দ মতো কলেজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই সুবাদে গত বছরের ২ জুলাই মালদহ কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদের চাপে এর আগেও একবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সরাসরি না বললেও এবারও যে সেই চাপের মুখেই ইস্তফার সিদ্ধান্ত, ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর এর পিছনে এবার রাজ্যের এক মন্ত্রী আড়াল থেকে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement