মুখ্যমন্ত্রী বলার পরেও মিলল না সাইকেল, ক্ষোভ সিউড়িতে

স্কুল থেকে সাইকেল দেওয়া হবে। সকাল সকাল তাই সিউড়ির আরটি গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রীরা স্কুলে এসে হাজির হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পোঁছে দেখল সাইকেলের কোনও চিহ্নও নেই।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৫৩
Share:

সাইকেল দেওয়া হবে বলে সকাল সকাল স্কুলে হাজির ছাত্রীরা। ছবি: তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্কুল থেকে সাইকেল দেওয়া হবে। সকাল সকাল তাই সিউড়ির আরটি গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রীরা স্কুলে এসে হাজির হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পোঁছে দেখল সাইকেলের কোনও চিহ্নও নেই।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সিউড়ির চাঁদমারি মাঠে প্রশাসনিক সভা করেছিলেন। সেই সভামঞ্চ থেকেই ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের আওতায় জেলার অনেক ছাত্রীর হাতে সাইকেল তুলে দিয়েছিলেন তিনি। সিউড়ির আর টি গার্লস বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গার্লস হাইস্কুলের ৬৭৫ জন ছাত্রী এই প্রকল্পে সাইকেল পাওয়ার কথা ছিল। তাদের মধ্যে ১৯৩ জন সভামঞ্চ থেকে সাইকেল পায়। সকলকে মঞ্চ থেকে সাইকেল দেওয়া সম্ভব নয় বলে মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছিলেন, বাকিরা শুক্রবার সকালে নিজের নিজের স্কুল থেকে সাইকেল পাবে।

নতুন সাইকেল পাবে বলে এ দিন বই খাতা গুছিয়ে, টিউশন কামাই করে অনেক ছাত্রীই সকাল সকাল স্কুলে হাজির হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত আনন্দ নিমেষেই উধাও হয়ে গেল স্কুলে সাইকেল না আসায়। আশা করে থেকে শেষে সাইকেল না মেলায় মনখারাপ ছাত্রীদের। ক্ষুব্ধ তাদের অভিভাবকেরাও। তাঁরা অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তার অভাবেই এমন কাণ্ড ঘটেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে ক্ষোভের কথা জানিয়ে বেশ কয়েকজন অভিভাবক এ দিন ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দেখা করেন সদর মহকুমা শাসক অরুন্ধতী ভৌমিকের সঙ্গে। এ বারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ওই স্কুলটির ছাত্রী মোহিনী উপাধ্যায়, পৌলমী ভট্টাচার্যরা জানায়, নতুন সাইকেল পাবে বলে তারা আশা করে ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার মঞ্চ থেকে অনেকে সাইকেল পেলেও তারা পায় না। তখন স্বান্ত্বনা মিলেছিল মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে। তাই এ দিনও পড়াশুনা ছেড়ে সাইকেল আনার জন্য তারা আগেভাগে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে থাকার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান, সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে সাইকেল স্কুলে এসে পৌঁছয়নি। ফলে সাইকেল দেওয়া হবে না। স্কুলের ছাত্রী সোহিনীর মা গায়ত্রীদেবী অভিযোগ করেন, সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা। স্কুলের এই অব্যবস্থার ফলে ছাত্রীদের পড়াশুনারই ক্ষতি হল। পৌলমীর মা মন্দিরাদেবী জানান, তাঁরা এসডিওর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এসডিও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

Advertisement

দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী রীতশ্রী সূত্রধর, ইন্দ্রানী রায়, পল্লবী সৌমণ্ডল, শ্রুতি পাল বা একাদশ শ্রেণির জয়িতা সেনগুপ্ত, লিজা পাল মজুমদাররা এ দিন জানায়, এত দিন নিজেদের পুরনো সাইকেলগুলি খারাপ লাগত না। কিন্তু স্কুল থেকে নতুন সাইকেল মিলবে জানতে পারার পর খুব আনন্দ হয়েছিল। তারা জানায়, মঞ্চ থেকে সাইকেল না পাওয়ায় মনে একটা চাপা দুঃখ ছিলই। কিন্তু এ দিনও স্কুলে গিয়ে সাইকেল না পাওয়ার পর সকলেরই মুখ ভার।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মৌ দাশগুপ্ত এবং স্কুলের গ্রন্থাগারিক রণজিৎ রায়ের দাবি, তাঁরা জানতেন প্রশাসনের তরেফে শুক্রবার সকালে স্কুলে সাইকেল পৌঁছে দেওয়া হবে। সেই কারণে স্কুলের অনেক শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীরা এ দিন সকাল ৭টার মধ্যে স্কুল চলে এসেছিলেন বলে তাঁরা দাবি করেন। তাঁরা জানান, স্কুলের দু’টি ক্লাসঘর খালি করে রাখা হয় সাইকেল রাখার জন্য। কিন্তু সাইকেল আসেনি। প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘‘ছাত্রীরা এই ভুল ধারণা নিয়ে ফিরে গেল যে আমাদের জন্য এ দিন ওরা সাইকেল পেল না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের সত্যি কিছু করার ছিল না।’’ তিনি দাবি করেন, সমস্যার কথা সঙ্গে সঙ্গে এসডিওকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এসডিও অরুন্ধতী ভৌমিক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement