(বাঁ দিকে) কলেজের নতুন ভবন। (ডান দিকে) শ্রেণিকক্ষের দ্বারোদঘাটনে গৌরীদেবী। —নিজস্ব চিত্র।
প্রাক্তন শিক্ষিকার দানের টাকায় গড়ে উঠল মহিলা কলেজের শ্রেণিকক্ষ। দক্ষিণ দিনাজপুরের এই বালুরঘাট মহিলা কলেজেরই অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করতেন শিক্ষিকা গৌরী অধিকারী বিশ্বাস। তাঁর ৩০ লক্ষ টাকার অর্থ সাহায্যেই তৈরি হয়েছে মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দোতলা ভবনের শ্রেণিকক্ষ। সোমবার কলেজ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী জ্যোতির্ময় কর। উপস্থিত ছিলেন জেলার তিন বিধায়ক সত্যেন রায়, বাচ্চু হাঁসদা, মাহমুদা বেগম-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
মন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘এটি মহৎ ও প্রশংসনীয় কাজ। সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি এ ধরনের সহায়তা কলেজের পঠনপাঠনের পরিকাঠামো বিস্তার করে উন্নত শিক্ষার সহায়ক হবে।’’
বালুরঘাট শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা গৌরীদেবী ১৯৭১ সালের ২০ অগস্ট বালুরঘাট মহিলা কলেজে শিক্ষিকা পদে যোগ দিয়েছিলেন। অবসর নেন ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল। টানা ৩৮ বছর চাকরি জীবনের শুরু থেকে কলেজটির পথ চলার সাক্ষী তিনি। গৌরীদেবীর কথায়, ‘‘কলেজে বহু দুঃস্থ ছাত্রী পড়াশোনা করেন। তখন থেকেই মনে হয়েছিল ওঁদের কী ভাবে সাহায্য করা যায়। জনে জনে সাহায্যের চেয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে পঠনপাঠনের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ওই উদ্যোগের কথা প্রথম মনে আসে।’’
জেলায় একটি মাত্র গার্লস কলেজ। নারী শিক্ষার কতটা প্রয়োজন, গৌরীদেবী চাকরি জীবন থেকে তা অনুভব করেছিলেন বলে জানান। তাই অবসরকালীন প্রাপ্ত টাকার সঙ্গে নিজের জমানো টাকা মিলিয়ে তিনি কলেজকে ওই অর্থ দান করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী বিভূতিবাবু এবং ছেলেরাও কোনও আপত্তি করেননি। গৌরীদেবীদের দুই ছেলের এক জন আমেরিকায় চাকরি করেন। অন্য জন সমবায় ব্যাঙ্কের ম্যানেজার।
বালুরঘাট মহিলা কলেজ সূত্রের খবর, জুলজি, বোটানি এবং বায়োলজি তিনটি বিভাগে বর্তমানে মাত্র ৫০ জন ছাত্রীর পঠনপাঠনের সুযোগ রয়েছে। ঘরের অভাবে বিজ্ঞান বিভাগে আসন বাড়ানো নিয়ে সমস্যায় পড়তে হত কলেজ কর্তৃপক্ষকে। কলেজেরই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা গৌরীদেবীর ওই আর্থিক দানে সেই সমস্যা মিটল। কলেজটিতে বর্তমানে ছাত্রী সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। কলেজ অধ্যক্ষ বিমান চক্রবর্তী বলেন, ‘‘শ্রেণিকক্ষ বাড়ায় পঠনপাঠনের সুবিধা হল। ওই টাকায় তৈরি ভবনের ঘরে ছাত্রীদের জন্য একটি জিমন্যাশিয়াম চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’