লশকর-এ-ত্যায়বার প্রধান হাফিজ় সইদ। ছবি: সংগৃহীত।
লশকর জঙ্গি সংগঠনের প্রধান হাফিজ় সইদ-ঘনিষ্ঠ আরও এক জঙ্গিকে গুলি করে খুন করলেন অজ্ঞাপরিচয়েরা। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় রবিবার তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে সে দেশের পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ওই জঙ্গির নাম শেখ ইউসুফ আফ্রিদি।
খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রবিবার খাইবারের লান্ডি কোটাল এলাকায় ছিলেন আফ্রিদি। একদল দুষ্কৃতী গাড়িতে করে এসে আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হাফিজ়-ঘনিষ্ঠের। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দলই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ায় লশকরের সংগঠনটি সামলাতেন আফ্রিদি। লশকরের আঞ্চলিক জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম মাথা ছিলেন তিনি। জঙ্গিদলে নিয়োগ, জঙ্গি কার্যকলাপকে কী ভাবে আরও সঙ্ঘবদ্ধ করা যায়, এই বিষয়গুলি দেখাশোনা করতেন। বেশ কয়েকটি সাংবাদমাধ্যম লশকরের নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষিত ছিলেন আফ্রিদি। ওই সূত্রের দাবি, এই হামলা চালিয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান-পাকিস্তান (টিটিপি)। যারা আহল-ই-হাদিথ (সালাফি)-এর সঙ্গে যুক্ত তাঁদেরই বেছে বেছে শিকার বানানো হচ্ছে। এই ঘটনায় খাইবার পাখতুনখোয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও পুলিশ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রসঙ্গত, এ মাসের মাঝামাঝিতে ঠিক একই ভাবে খুন করা হয়েছিল লশকরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজ়াকে। তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কারা হামলা চালিয়েছিল সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। ভারতে বেশ কয়েকটি হামলাতেও তাঁর নাম জড়িত বলে সূত্রের খবর। হামজ়া আফগান মুজাহিদিন। জ্বালাময়ী বক্তৃতা এবং লেখনীর জন্য বিশেষ পরিচিত। এক সময় লশকর পরিচালিত প্রকাশনার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। ২০০২ সালে কাফিলা দাওয়াত অওর সাহাদত বইটি লেখেন হামজ়া। আমেরিকার ট্রেজ়ারি দফতরের কালো তালিকায় রয়েছেন এই পাক জঙ্গি।