July Charter of Bangladesh

জুলাই সনদ কার্যকরের দাবিতে এ বার তারেকের সঙ্গে সংঘাতে জামায়াত জোট! বাংলাদেশ জুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে চলতি জাতীয় সংসদের একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসাবেও কাজ করার কথা। কিন্তু ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রতিনিধিরা যোগ না দেওয়ায় এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৫
Share:

(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জামায়াত প্রধান শফিকুর রহমান (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের উপর চাপ বাড়াল বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। অবিলম্বে জুলাই সনদ কার্যকরের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেছে তারা।

Advertisement

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলি কার্যকরের একটি স্তর ছিল গণভোট। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে হওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নে চলতি জাতীয় সংসদের একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করার কথা। কিন্তু ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রতিনিধিরা যোগ না দেওয়ায় এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ তাদের ১০টি সহযোগী দল জুলাই সনদ কার্যকরের দাবিতে সরব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের বর্ষপূর্তিতে ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন বাংলাদেশের বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। জুলাই সনদে সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই প্রস্তাবগুলির বাস্তবায়নে যে গণভোট হয়, তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ‘হ্যাঁ’, অর্থাৎ সম্মতিসূচক ভোট দিয়েছেন। জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে থাকা বেশ কিছু প্রস্তাবে আগেই ভিন্ন মত জানিয়ে রেখেছিল বিএনপি।

Advertisement

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ৮৪ দফা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাবকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল ওই গণভোটে। যে চারটি বিষয়ের উপর গণভোট হয়, সেগুলি হল—

১. নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গঠন করা হবে।

Advertisement

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলির ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলি বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দল বা জোট বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement