Imprisonment

১০ বছরের সশ্রম জেল হাসানুল ইনুর

২০২৪ সালের ৫ অগস্টে কুষ্টিয়া ৫ জনকে হত্যা এবং ওই বছর জুলাই-অগস্টে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের আমলে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩০
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হত্যা ও হিংসায় উস্কানির ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ)-এর সভাপতি এবং দেশের প্রাক্তন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে মঙ্গলবার ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। একই সঙ্গে তাঁকে দু’লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। এই রায়ের প্রেক্ষিতে জাসদ এক বিবৃতিতে বলেছে, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে ইনুর অগ্রণী ভূমিকার জন্যই তাঁর উপরে এই রাজনৈতিক প্রতহিংসা চরিতার্থ করা হল। সাজা ঘোষণার পরে ইনু বলেছেন, ‘‘এটি একটি ফরমায়েশি রায়। প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে আমাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলাম।’’

২০২৪ সালের ৫ অগস্টে কুষ্টিয়া ৫ জনকে হত্যা এবং ওই বছর জুলাই-অগস্টে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের আমলে। এ দিন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়দানের সময় ট্রাইবুনাল বলেছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিন নম্বর অভিযোগে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লক্ষ টাকা করে মোট ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনটি অভিযোগে মোট ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হলেও সাজাগুলি একযোগে কার্যকর হবে। সে কারণে ইনুকে কার্যত ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া পাঁচটি অভিযোগ থেকে ওই জাসদ নেতাকে মুক্তি দিয়েছে আদালত।

দলের নেতার শাস্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাসদএক বিবৃতিতে বলেছে, সাজানো আদালতে বিচারের নামে নিকৃষ্টতম অবিচার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন ইনু। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছিল সেগুলি ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং অসত্য। রায়ের প্রতিবাদে এ দিন মিছিল করে জাসদের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকরী ইনু বরাবরই ভারত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। স্বভাবতই মুহাম্মদ ইউনূস জমানায় তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল। অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন, এই জাসদ নেতার সাজা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কট্টরপন্থীদের চাপও ছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন