উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ছে চিনের সেই সামরিক পরিকাঠামো। ছবি: রয়টার্স।
ধু-ধু মরুভূমি। তার মাঝে অষ্টভুজাকৃতির একটি ‘নকশা’। প্রথমিক ভাবে দেখে অনেকটা তেমনই মনে হতে পারে। কিন্তু সেই নকশা যে একটি সামরিক পরিকাঠামোর, তা সহজে বোঝা সম্ভব নয়। আর অষ্টভুজাকৃতির সেই সামরিক পরিকাঠামোই এ বার ধরা পড়ল উপগ্রহচিত্রে। আর সেই সামরিক পরিকাঠামো বানাচ্ছে চিন। যাতে আমেরিকা হামলা করলেও, পাল্টা হামলার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা তাদের হাতে থাকে। অন্তত তেমনই দাবি করছে বেশ কয়েকটি সূত্র।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত সেই উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, মরুভূমির মাঝে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র রয়েছে। আর সেই কেন্দ্রের পাশেই ওই অস্ত্রভান্ডার এবং সামরিক পরিকাঠামোটি তৈরি করা হচ্ছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, যে এলাকায় ওই অষ্টভুজাকৃতির পরিকাঠামো দৃশ্যমান, সেটি সাইলো অঞ্চল। অষ্টভুজাকৃতির ওই সামরিক পরিকাঠামোয় রয়েছে কয়েকশো বাঙ্কার, ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চপ্যাড। নিজেদের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারকে আরও মজবুত করতে এই ধরনের সামরিক তৎপরতা চিনের। এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
প্রসঙ্গত, চিনের হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যার নাগালে আমেরিকার বহু শহর। বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে আমেরিকার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং আমেরিকার নাগাল থেকে তাদের অস্ত্রভান্ডারকে সুরক্ষিত রাখতেই লালফৌজের এই ধরনের তৎপরতা। শিংজিয়াং প্রদেশে মরুভূমির মাঝে অষ্টভুজাকৃতির এই সামরিক পরিকাঠামো বানাচ্ছে চিন। এই পরিকাঠামোর উত্তর এবং দক্ষিণ কোণে কয়েকশো লঞ্চপ্যাড বানানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে এই লঞ্চপ্যাডগুলিকে দ্রুত সক্রিয় করা যায়, সে ভাবেই নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সেনাছাউনি, সামরিক বাহন, কমান্ড সেন্টারও তৈরি করা হচ্ছে। উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে, ওই সামরিক পরিকাঠামোর আশপাশে সড়ক, রেল এমনকি বিমানঘাঁটিও তৈরি হচ্ছে।
এই উপগ্রহচিত্রে চিনের সামরিক তৎপরতা প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। হাওয়াই প্যাসিফিক ফোরাম থিঙ্ক ট্যাঙ্কের এক সদস্য আলেকজান্ডার নিল জানিয়েছেন, মরুভূমির মাঝে কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই অস্ত্রভান্ডারের ‘পাতাললোক’ তৈরি করছে চিন। ডুবোজাহাজ, রণতরী এবং যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি যাতে ভূমি থেকেও পরমাণু হামলা করা যায়, তারই পাকাপাকি বন্দোবস্ত করছে চিন। বিশেষ করে তাইওয়ান নিয়ে আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে যে টানাপড়েন অব্যাহত, সেই আবহে চিনের এই সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। সম্প্রতি পেন্টাগনের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০০ পরমাণু অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তার পরেই চিনের এই সামরিক পরিকাঠামোর ছবি প্রকাশ্যে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, গত ছ’বছর ধরে পূর্ব জিনজিয়াঙে অষ্টভুজাকৃতির দু’টি সামরিক পরিকাঠামো বানানো হচ্ছে।