Coronavirus

স্তব্ধ হার্লে ডেভিডসনের এই শহরও

জানুয়ারিতে যখন প্রথম শিকাগো শহরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে, তখনই এই শহরের বাসিন্দারা এই রোগটি সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন।

Advertisement

আকাশ দে

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২০ ০৩:৫৮
Share:

ছবি: এপি।

আমেরিকার মিডওয়েস্ট অঞ্চলের রাজধানী শিকাগো থেকে ৯৩ মাইল দূরে উইসকনসিন প্রদেশে এই শহর মিলওয়াকি। পৃথিবীর কাছে এই শহর পরিচিত মোটরবাইক সংস্থা হার্লে ডেভিডসনের শহর হিসেবেই। শহরটির আয়তন মাত্র ৯৭ বর্গ মাইল হলেও এই প্রদেশে এটিই বৃহত্তম শহর।

Advertisement

জানুয়ারিতে যখন প্রথম শিকাগো শহরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে, তখনই এই শহরের বাসিন্দারা এই রোগটি সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু আমাদের তখন মনে হয়নি যে, সে রকম চিন্তার কিছু আছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি মিলওয়াকির খুব কাছে ডেভ কাউন্টিতে এক জন করোনা পজ়িটিভের খোঁজ মেলে। তার পরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জন কর্মীরও কোভিড-১৯ ধরা পড়ল। তখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্প্রিং ব্রেক বা বসন্তকালীন ছুটিকে কিছু দিন বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হল, ছুটির পরে ক্লাস, পড়াশোনা, গবেষণা— সব কিছুই অনলাইনে হবে। পুরো প্রদেশে জারি হয়ে গেল লেভেল-৩ ওয়ার্নিং। যার মানে, জরুরি জিনিসপত্র কেনাকাটা ছাড়া অন্য কোনও কারণে বাড়ি থেকে বেরোনো যাবে না।

আমি ও আমার কয়েক জন সহকর্মী শহরেই একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকি। এখন আমরা পুরোপুরি ঘরবন্দি। গবেষণা, শিক্ষকতা ও পড়াশোনার কাজ ক্যানভাস, জুম, স্কাইপ, টিম্স ইত্যাদি সফ্‌টওয়্যারের মাধ্যমেই চলছে।

Advertisement

স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী গোটা রাজ্যে প্রতিদিন বাড়ছে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা। সেই খবর পৌঁছচ্ছে দেশেও। সেখানেও পরিবারের সবাই ভীষণ চিন্তায় রয়েছেন। আমি এখানে আটকে, বাড়ির লোকের কথা ভেবে আমারও চিন্তা হচ্ছে। আগে কখনও এমন অসহায় অবস্থায় পড়িনি। তবে এই পরিস্থিতিতেও একটা কথা অনস্বীকার্য। সেটা হল, দেরিতে হলেও আমেরিকার মানুষ এবং সরকার চেষ্টা করে চলেছে যাতে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ও যথাসাধ্য সহযোগিতা করছে এই কাজে। যে কোনও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। বিনামূল্যে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার ও সাপ্তাহিক রেশন বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পড়ুয়া ও গবেষকদের জন্য বিশেষ জরুরিকালীন অনুদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত কেটে যাবে এই দুঃসময়। আবার পুরনো ছন্দে ফিরবে আমার বিশ্ববিদ্যালয়। চেনা ছন্দে ফিরবে আমাদের পৃথিবী।

(লেখক ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনে গবেষক)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement