Donald Trump on Pakistan

সমঝোতার বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প! মুনির ও শাহবাজ়কে কী বার্তা? বিবৃতিতে এল ভারতের প্রসঙ্গও

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান থেকেই ‘দুঃসংবাদ’ দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁরা ফিরে গিয়ে ট্রাম্পকে বৈঠকের কথা জানান। তার পরেই তিনি বিবৃতি দেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৫
Share:

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইসলামাবাদে আয়োজিত আমেরিকা-ইরানের সমঝোতার বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তানের ভূমিকায় তিনি খুশি। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা রয়েছে ট্রাম্পের বিবৃতিতে। সঙ্গে ভারতের উল্লেখও রয়েছে।

Advertisement

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান থেকেই ‘দুঃসংবাদ’ দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁরা ফিরে গিয়ে ট্রাম্পকে বৈঠকের কথা জানান। এর পর ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘ভান্স, উইটকফ এবং কুশনার ইসলামাবাদের বৈঠক সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের অত্যন্ত যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে এই বৈঠক আয়োজন সম্ভব হয়েছিল। ওঁরা অসাধারণ মানুষ। ভারতের সঙ্গে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ থামিয়ে তিন থেকে পাঁচ কোটি প্রাণ বাঁচানোর জন্য ওঁরা আমাকে বার বার ধন্যবাদ জানান। আমার সেটা শুনতে সবসময় ভাল লাগে। ওঁরা মানবিকতার কথা বলেন।’’

গত বছর ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত প্রত্যাঘাত করেছিল পাকিস্তানে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ গুঁড়়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একাধিক পাক জঙ্গিঘাঁটি। সেই অভিযানের পর দুই দেশ যে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল, ট্রাম্প সেই যুদ্ধই থামিয়েছেন বলে দাবি করেন। ভারত সরকার সেই দাবি মানেনি। বরং নয়াদিল্লি বার বার জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। তার নেপথ্যে তৃতীয় কোনও দেশের হাত নেই। তবে পাকিস্তান প্রথম থেকে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার কথা দাবি করে এসেছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতার আলোচনাতেও ভারত-পাকিস্তানের সেই সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে আনলেন ট্রাম্প।

Advertisement

বিবৃতিতে ইরানকে তুলোধনা করেছেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ইরান হরমুজ় প্রণালী খুলে দেবে বলে কথা দিয়েছিল। কিন্তু সেটা জেনেশুনেই এখনও করেনি। তাতে বহু মানুষ, বহু দেশ সমস্যায় পড়েছে। যেমন কথা দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী দ্রুত ওদের আন্তর্জাতিক জলপথ খুলে দিতে হবে।’’ পাকিস্তানের বৈঠক প্রসঙ্গে এর পর ট্রাম্প বলেন, ‘‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলেছে। সেখানে কী কী হয়েছে, আমি বিশদে বলতে পারি। কিন্তু একটাই বিষয় এখানে জরুরি— ইরান পরমাণু শক্তিধর দেশ হওয়ার আকাঙক্ষা থেকে সরে আসতে চায় না। অনেক বিষয় নিয়েই দু’পক্ষ সম্মত হয়েছে। তাতে আমাদের সামরিক অভিযান বন্ধও হতে পারত। কিন্তু পারমাণবিক শক্তিকে এমন অস্থির স্বভাবের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়ার কাছে সেই সমস্ত বিষয়ের কোনও গুরুত্বই নেই। আমার তিন প্রতিনিধি ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেছেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। সবচেয়ে জরুরি বিষয়টিতেই তাঁরা অনমনীয় ছিলেন। আর আমি প্রথম থেকে বলে আসছি, ইরানকে কখনও পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেব না।’’

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পরেই হরমুজ় প্রণালী অবরোধের ডাক দিয়েছেন ট্রাম্প। বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা (ভারতীয় সময়) থেকে এই প্রণালীতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে আটকে দেবে আমেরিকা। ইরানকে শুল্ক দিয়ে কেউ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। সন্ধ্যার পর থেকে নতুন করে যুদ্ধের পারদ চড়তে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement