‘কুর্দরা আক্রান্ত হলে ভাঙব তুর্কি অর্থনীতি’

সেনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখনই যে তিনি সিরিয়া থেকে পুরোপুরি সরতে নারাজ, তা বুঝিয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কুর্দ বাহিনীর উপর হামলা চালালে তুরস্কের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

ওয়াশিংটন শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ ০২:১৮
Share:

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল চিত্র.

সেনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখনই যে তিনি সিরিয়া থেকে পুরোপুরি সরতে নারাজ, তা বুঝিয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কুর্দ বাহিনীর উপর হামলা চালালে তুরস্কের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

সিরিয়ায় আইএস নিধনে দীর্ঘদিন এই কুর্দ বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে আমেরিকা। কিন্তু সম্প্রতি ট্রাম্পের নির্দেশে সেখান থেকে সরতে শুরু করেছে মার্কিন সেনা। এমতাবস্থায় সিরিয়ার মিত্র দেশ তুরস্ক, কুর্দ বাহিনীর উপর ফের চড়াও হতে পারে বলে আশঙ্কা। সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জোটের বৃহত্তম শরিক কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টি। কিন্তু এরই অংশ কুর্দিশ পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটকে বরাবর জঙ্গি গোষ্ঠী হিসেবেই মনে করে এসেছে আঙ্কারা। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আবার এরাই আমেরিকার জোটসঙ্গী ছিল। তুরস্ককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কুর্দ বাহিনীকেও কোনও রকম উস্কানি দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।

কূটনীতিকেরা বলছেন, তুরস্ককে নিয়ে ট্রাম্পের এই আশঙ্কা অমূলক নয়। কুর্দ বাহিনীকে সমর্থন জোগানো নিয়ে বহুদিন থেকেই আমেরিকার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে আসছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্দোয়ান। তাঁর অভিযোগ, আইএস হটানোর নামে নতুন একটা জঙ্গি গোষ্ঠীকে গড়ে তুলছে ওয়াশিংটন।

Advertisement

কাল ট্রাম্প এরই পাল্টা জবাব দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি কী ভাবে তুরস্কের অর্থনীতি ধ্বংস করবেন, তার ব্যাখ্যা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুধু ৩০ কিলোমিটারের একটা ‘সেফ জ়োন’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই এলাকা কোথায় এবং কাদের অর্থে তৈরি করা হবে, তার অবশ্য কোনও ইঙ্গিত তিনি।

সেনা সরানোর ঘোষণা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, সিরিয়ায় এখন আইএসের কোণঠাসা অবস্থা। কিন্তু জঙ্গিদের এখনও কিছু শক্ত ঘাঁটি রয়ে গিয়েছে বলে দাবি সিরীয় প্রশাসনের। পূর্ব সিরিয়ার এমন একটি জঙ্গি অধ্যুষিত এলাকা থেকে গত শনিবারই ৬০০-রও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জঙ্গিদমনে লড়াইও চলছে। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ডিসেম্বরের শেষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০০ জঙ্গি ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু মার্কিন সেনা পুরোপুরি মাঠ ছাড়লে ফের তারা মরণকামড় দিতে পারে বলেও আশঙ্কা অনেকের। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গত ছ’মাসে ২৫ হাজার সিরীয় নাগরিক ঘরছাড়া বলে গত শুক্রবার রিপোর্ট দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। হাজিন শহরের আশপাশে এখনও হাজার দুয়েক নিরীহ আটকা পড়ে রয়েছেন বলে দাবি তাদের।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন