আজ়ারবাইজানের নখচিভন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার আছড়ে পড়ে ইরানের ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের রেশ এ বার আজ়ারবাইজানেও। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইরান সীমান্তের কাছে আজ়ারবাইজানের নখচিভন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আছড়ে পড়ে ড্রোন। সে দেশের একটি স্কুল ভবনের কাছেও ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে জানাচ্ছে রয়টার্স। দাবি করা হচ্ছে, ইরানের দিক থেকেই ওই ড্রোনগুলি উড়ে এসেছে। যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, দু’টি ড্রোন বৃহস্পতিবার আজ়ারবাইজানে এসে পড়েছে। তার মধ্যে একটি এসে পড়েছে ইরান সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে নখচিভন বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে। অন্যটি গিয়ে পড়েছে পাশের একটি গ্রামের স্কুল ভবনের কাছে। ঘটনায় দু’জন জখম হয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। রয়টার্স জানাচ্ছে, এর ফলে বিমানবন্দরে আগুন ধরে গিয়েছে। বিমানবন্দরের কাছে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে। টার্মিনাল ভবনের ভিতরে স্কাইলাইটের ক্ষতি হয়েছে।
অন্য দিকে, কাতারের রাজধানী দোহাতেও একের পর বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে বৃহস্পতিবার দুপুরে। বসতি এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। যদিও কাতার সরকার জানাচ্ছে, তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই হামলা আটকে দিয়েছে।
আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষের ষষ্ঠ দিন চলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে এত দিন আজ়ারবাইজানে কোনও হামলা হয়নি। বৃহস্পতিবার আচমকাই ইরানের পড়শি দেশে এক জোড়া ড্রোন হামলা চালানো হয়। আজ়ারবাইজানকে লক্ষ্য করেই এই ড্রোনগুলি ছোড়া হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে ইরানের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছে আজ়ারবাইজান। সে দেশের রাজধানী বাকুর ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আজ়ারবাইজানের বিদেশ মন্ত্রক। ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকে। কেন এই ঘটনা ঘটল, তা দ্রুত ব্যাখ্যা করে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য বলা হয়েছে ইরানকে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলেছে আজ়বাইজান।
আজ়ারবাইজানের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমাদের ভূখণ্ডে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এর ফলে এই অঞ্চলে (পশ্চিম এশিয়ায়) উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।” সঙ্গে এ-ও জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনার জন্য তেহরানের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে আজ়ারবাইজানের।
বুধবার তুরস্কের দিকেও উড়ে গিয়েছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। ইরাক এবং সিরিয়ার উপর দিয়ে তুরস্কের দিকে যাচ্ছিল ক্ষেপণাস্ত্রটি। তবে আঘাত হানার আগেই সেটিকে মাঝআকাশে ধ্বংস করে দেয় নেটো বাহিনী। তুরস্কের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর পরই আঙ্কারার ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রক। এর পরে বৃহস্পতিবার সকালেই বিবৃতি দেয় ইরানের সামরিক বাহিনী। তেহরান জানায়, তারা তুরস্কের দিকে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি। তুরস্কের সার্বভৌমত্বকে ইরান সম্মান করে বলেও জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।