Harish Rana Euthanasia Case

কোথাও আত্মহত্যার অধিকারও সিদ্ধ, কোথাও নিষ্কৃতিমৃত্যু নিষিদ্ধ! বিশ্বের নানা দেশে জীবন-মরণের নানা আইন

ইউরোপ এবং আমেরিকার বহু দেশেই নিষ্কৃতিমৃত্যু স্বীকৃত। কোথাও প্রত্যক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যু, অর্থাৎ ওষুধ বা প্রযুক্তির সাহায্যে মৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার পরোক্ষ মৃত্যু (জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নেওয়া) স্বীকৃতি পেয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৫
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দীর্ঘ দিন রোগশয্যায় শায়িত বছর বত্রিশের হরীশ রানাকে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশে এই ঘটনা প্রথম। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বুধবার শীর্ষ আদালত হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দিয়েছে। তাঁর বাবা-মায়ের অনুরোধে জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। নিষ্কৃতিমৃ্ত্যু নিয়ে অবশ্য নানা দেশে নানা রকমের বিধি এবং শর্ত রয়েছে। কোনও দেশে এটি বৈধ। কোনও দেশে আবার এটি অবৈধ তো বটেই, অপরাধেরও শামিল।

Advertisement

ভারতে অবশ্য আট বছর আগেই আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে পরোক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যু। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট পরোক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যুকে স্বীকৃতি দিয়ে গিয়ে সম্মানজনক মৃত্যুর কথা বলেছিল। দেশের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেছিলেন, “অর্থহীন ভাবে বেঁচে থাকা কি সম্মানজনক? মৃত্যুর অন্ধকার সুড়ঙ্গে মাথা উঁচু করে প্রবেশের অধিকার কি থাকতে নেই?’’

ইউরোপ এবং আমেরিকার বহু দেশেই নিষ্কৃতিমৃত্যু স্বীকৃত। কোথাও প্রত্যক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যু, অর্থাৎ ওষুধ বা প্রযুক্তির সাহায্যে মৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার পরোক্ষ মৃত্যু (জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নেওয়া) স্বীকৃতি পেয়েছে।

Advertisement

নেদারল্যান্ডস: বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে ২০০২ সালে নিষ্কৃতিমৃত্যুকে স্বীকৃতি দিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। সে দেশের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ অসহনীয় কষ্ট পেয়ে নিষ্কৃতিমৃত্যুর আর্জি জানালে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার পরামর্শ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্রমশ মৃত্যুমুখে ঢলে পড়বেন। অর্থাৎ নেদারল্যান্ডসে প্রত্যক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যু স্বীকৃত। তবে শর্ত একটিই, আবেদনকারীর বয়স ১২ বা তার বেশি হতে হবে। যদিও ১২ থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদনকারীর বাবা-মায়ের অনুমতি লাগবে। ১৬ বছর বা তদূর্ধ্ব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ওই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

কানাডা: এই দেশে প্রত্যক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাতেও যাঁদের সুস্থ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিদের মৃত্যু ত্বরান্বিত হবে।

Advertisement

আমেরিকা: ৫০টি প্রদেশের মধ্যে ১১টিতে নিষ্কৃতিমৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বিধি অনুযায়ী, ওষুধের মাধ্যমে নিষ্কৃতিমৃত্যু বৈধ। সংশোধিত বিধিতে বলা হয়েছে, মৃত্যুর জন্য আবেদন করা ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া যাবে।

সুইৎজ়ারল্যান্ড: এই দেশের আইন অনুযায়ী, ‘স্বার্থপরতা’ ব্যতিরেকে অন্য সমস্ত ক্ষেত্রে কেউ ‘আত্মহত্যা’ করতে চাইলে অন্য প্রাপ্তবয়স্কেরা তাঁকে সাহায্য করতে পারবেন। নিষ্কৃতিমৃত্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ওষুধ দিতে পারবেন চিকিৎসকেরা।

অস্ট্রেলিয়া: দেশের উত্তরে এবং রাজধানী ক্যানবেরায় নিষ্কৃতিমৃত্যুর আইনি বৈধতা নেই। আবার সে দেশেরই ভিক্টোরিয়া, তাসমানিয়া, সাউথ অস্ট্রেলিয়া, কুইন্সল্যান্ড, নিউ সাউথ ওয়েল্‌সের মতো প্রদেশে ওষুধের মাধ্যমে নিষ্কৃতিমৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

জাপান: প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র জাপানের আইনে নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। অবশ্য সে দেশে আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় সাহায্য করা অপরাধ। কেবল জাপান নয়, অনেক দেশেই অবশ্য নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে স্পষ্ট কোনও নিয়ম বা বিধি নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement