Bangladesh-Turkey Deal

প্রতিরক্ষায় সাহায্যে উৎসাহী, ঢাকায় তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী

ইউনূসের আমল থেকেই বাংলাদেশ সেনা অফিসারেরা নিয়ম করে তুরস্ক যাচ্ছেন। তুরস্ক থেকে ‘অ্যাটাক ড্রোন’ কেনার ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৮:৪৮
Share:

তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান।

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের আমল থেকেই তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। তারেক রহমানের আমলেও তা অব্যাহত। সেই সূত্র ধরে বাংলাদেশ সফর করছেন তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান। শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, ঢাকাকে প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা করতে তুরস্ক আগ্রহী। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ‘মধুর’। ফলে ফিদানের বাংলাদেশ সফর ভারতের চিন্তার কারণহতে পারে।

ঢাকায় এ দিন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ফিদান। পরে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও করেছেন দুই বিদেশমন্ত্রী। ফিদান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়াতে চায় তুরস্ক। তাঁর কথায়, ‘‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে আমাদের সহযোগিতা প্রসারিত করতে পদক্ষেপ করা যেতে পারে। সেগুলি পর্যালোচনা করেছি।’’

ইউনূসের আমল থেকেই বাংলাদেশ সেনা অফিসারেরা নিয়ম করে তুরস্ক যাচ্ছেন। তুরস্ক থেকে ‘অ্যাটাক ড্রোন’ কেনার ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ। একটি সূত্রের খবর, বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চায় রিসেপ তাইপে এর্দোগান সরকার। ওই সূত্র জানাচ্ছে, প্রাক্তন সেনা অফিসার তথা কট্টরপন্থী বলে পরিচিত রেজাকুল হায়দার চৌধুরী তুরস্কে রয়েছেন। এই কট্টরপন্থী নেতা বাংলাদেশে ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানি মামলার প্রধান আসামি। ইউনূস আমলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তুরস্কের গুপ্তচর সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিনের সঙ্গেও বৈঠককরেছেন তিনি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের কাছে অস্বস্তির বিষয়। কারণ, বহু বছর ধরে তুরস্ক আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে জোরালো সমর্থন করছে। পহেলগাম জঙ্গি হামলার পরে এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে আঙ্কারা প্রকাশ্যে ইসলামাবাদকে সমর্থন করেছে। তুরস্কের এই ভূমিকায় ভারতের প্রতিক্রিয়া শুধু কূটনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না। তুরস্কে ভিড় করা ভারতীয় পর্যটকেরা ক্রমশ বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে শুরু করেন। গ্রিস, সাইপ্রাসের মতো তুরস্কের সঙ্গে বিবাদে জড়িত দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক প্রসারিত করতে তৎপর ভারত। আর্মেনিয়ার সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করেছে নয়াদিল্লি। এক কূটনীতিকের কথায়, ‘‘তুরস্কের সঙ্গে ভারতের তেমন সদ্ভাব নেই, ওরা পাকিস্তানের বন্ধু। সেই রকম একটি দেশ বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উৎসাহ দেখানোর অর্থ নেপথ্যে তুরস্ক-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিভুজগড়ে ওঠা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন