Epstein Files

কলঙ্ক ঢাকতে চমস্কিও পরামর্শ দেন এপস্টিনকে? যৌনচক্রব্যূহ জুড়ে নামী চিন্তাবিদ থেকে ঘাঘু রাজনীতিকের ‘সুস্পষ্ট পদচিহ্ন’

এপস্টিনের বন্ধুদের কেউ নামজাদা শিল্পপতি, কেউ রাজনীতিক, কেউ বা অধ্যাপক। এই তালিকায় রয়েছেন বিখ্যাত চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কিও। এই বন্ধুরা ‘বিপদের দিনে’ কী ভাবে এপস্টিনের সহায় হয়েছিলেন, সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে এসেছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৯
Share:

(বাঁ দিকে) নোয়াম চমস্কি এবং জেফ্রি এপস্টিন (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের বন্ধুভাগ্য দেখলে যে কেউ ঈর্ষান্বিত হতে পারেন! এই বন্ধুদের কেউ নামজাদা শিল্পপতি, কেউ রাজনীতিক, কেউ অধ্যাপক, কেউ বা আইনজীবী। এই তালিকায় রয়েছেন বিখ্যাত চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কিও। এই বন্ধুরা ‘বিপদের দিনে’ কী ভাবে এপস্টিনের সহায় হয়েছিলেন, সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এপস্টিনের কেচ্ছা যথাসম্ভব ঢেকে রেখে ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে তাঁকে নানা রকম পরামর্শ দিচ্ছেন এই বন্ধুরা।

Advertisement

২০০৮ সালে এক নাবালিকাকে দেহব্যবসায় নামানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টিন। এপস্টিনের মেল বলছে, তার পরেও নামজাদা বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গিয়েছেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জনৈকা ভার্জিনিয়া জিওফ্রে এপস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের তোলার পর দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে শোরগোল পড়ে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সেই সময় এপস্টিনকে ‘সংবাদমাধ্যমকে সামলানোর পাঠ’ দিয়েছিলেন চমস্কি। এই বিষয়ে চমস্কির পরামর্শ চেয়েছিলেন এপস্টিন। জবাবে চমস্কি বলেন, “শকুনেরা (সংবাদমাধ্যম) চাইছে (তোমার) প্রকাশ্য বিবৃতি। তার পরেই ওরা বিষদাঁত নিয়ে আক্রমণ করবে।” একই সঙ্গে এপস্টিনকে চুপ করে থাকার পরামর্শ দেন চমস্কি।

২০০৬ সালে আমেরিকার পাম সমুদ্রসৈকতে এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন এপস্টিন। সেই ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি স্ট্যানলে পটিংগারের মেল পান এপস্টিন। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ওই মেল-এ এপস্টিনকে সমর্থন করার কথা জানান পটিংগার। পটিংগার লেখেন, “বিশ্বের ছোট মনের মানুষরা বড় মনের মানুষদের সহ্য করতে পারে না, বিশেষত যখন তারা সাফল্য পায়।” তার পরেই পটিংগার এপস্টিনের উদ্দেশে বলেন, “খারাপ সময় কেটে যাবে। সামনে তাকাও। মজার দিকগুলি মনে রেখো।”

Advertisement

সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গিয়েছিলেন আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন প্রধান স্টিফেন কসলিন। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত কসলিনের গবেষণার জন্য ২ লক্ষ মার্কিন ডলার ঢেলেছিলেন এপস্টিন। পরবর্তী সময়ের বেশ কয়েকটি ইমেলে দেখা গিয়েছে, এপস্টিনের ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে স্ক্রিপ্ট লিখে দিচ্ছেন কসলিন।

২০০৮ সালে যৌন অপরাধে প্রথম বার জেলে যাওয়ার পর এপস্টিনের মেল-এ ঢুকেছিল ইউরোপিয়ান কমিশনার (বাণিজ্য) পিটার ম্যান্ডেলসনের মেল। সেখানে লেখা “তাড়াতাড়ি জেলমুক্তির জন্য লড়াই করো। তোমার বন্ধুরা তোমার সঙ্গেই আছে। ভালবাসা নিয়ো।” ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে চমস্কি, বন্ধুরা যে সত্যিই এপস্টিনের সঙ্গে ছিলেন, প্রকাশিত ফাইলে তার ‘প্রমাণ’ ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে।

গত শুক্রবার আমেরিকার বিচার দফতর এপস্টিন ফাইলের ৩০ লক্ষ পাতা প্রকাশ্যে এনেছে। তার মধ্যে রয়েছে ২০০০ ভিডিয়ো। ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এর আগে প্রকাশিত ফাইলগুলোয় এপস্টিনের সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনকে। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়ে গত নভেম্বরে এপস্টিন সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২০০৮ সালে এপস্টিনের বিরুদ্ধে নাবালিকা ধর্ষণ ও নিগ্রহের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ২০১৯ সালের অগস্টে গ্রেফতারির মাসখানেকের মাথায় জেলেই আত্মহত্যা করেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement