হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ। — ফাইল চিত্র।
হরমুজ় প্রণালীর নির্দিষ্ট কিছু অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচল করলেও পুরো প্রণালী এখনও নিরাপদ নয়। হরমুজ়ের বেশ কিছু জায়গায় এখনও পড়ে রয়েছে মাইন। এ অবস্থায় হরমুজ়ের কোন পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সবচেয়ে নিরাপদ তা জানিয়ে দিল ইরান। একই সঙ্গে এ-ও জানাল, সংকীর্ণ ওই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে হলে এখনও ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখেই চলতে হবে জাহাজগুলিকে।
হরমুজ় দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ এবং সেখান থেকে বেরোনোর জন্য কোন পথ সবচেয়ে নিরাপদ, তা নিয়ে রবিবার একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে। সেখানে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশের জন্য ‘সবচেয়ে নিরাপদ’ পথ হল হরমুজ় দ্বীপের দক্ষিণ দিকের জলপথ। ওই অঞ্চল দিয়ে জাহাজগুলিকে হরমুজ়ে প্রবেশ করতে বলেছে ইরান। অন্য দিকে হরমুজ় দিয়ে আরব সাগরে ফেরার সময়ে লারাক দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে যেতে বলা হয়েছে জাহাজগুলিকে। বিবৃতি আরও বলা হয়েছে, হরমুজ় দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে হলে রিভলিউশনারি গার্ড (ইরানের সামরিক বাহিনী)-এ সঙ্গে সমন্বয় রেখেই চলতে হবে জাহাজগুলিকে।
আমেরিকা-ইরান শান্তিসমঝোতার পরে হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে গত কয়েক দিনে আবার উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে হরমুজ়ে। গত বৃহস্পতিবার ইরান একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে আমেরিকা। শনিবারও হরমুজ়ে একটি জাহাজে হামলা হয়। এ অবস্থায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উদ্দেশে ইরানের এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছিল তেহরান। কোনও জাহাজ যাতে হরমুজ় পার করতে না-পারে, সে জন্য সংকীর্ণ ওই জলপথে জায়গায় জায়গায় মাইন পেতে রাখে ইরান। সেই মাইন এখনও পুরোপুরি তুলে নেওয়া সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক জলপথ নজরদার সংস্থা আইএমও জানায়, এখনও প্রায় ৮০টি মাইন হরমুজ়ের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।