Iranian Singer

হিজাব না পরে গান গেয়েছিলেন! ইরানি গায়িকা-সহ ন’জনকে ৭৪ ঘা করে চাবুক মারার নির্দেশ দিল আদালত

২০২৪ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি অনুষ্ঠান করেছিলেন ২৯ বছরের পারাস্তু এবং তাঁর দলের আট জন। সেখানে ‘আজ় খুনে জাভানানে বতন’ (দেশের যুবসমাজের রক্ত থেকে) গানটি গেয়েছিলেন, যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৬:৫৯
Share:

পারাস্তু আহমাদি। — ফাইল চিত্র।

একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে হিজাব না পরে গান গেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সে কারণে ইরানের গায়িকা পারাস্তু আহমাদি এবং তাঁর দলের আট জনকে ৭৪ ঘা করে চাবুক মারার নির্দেশ দিল ইরানের কুম প্রদেশের এক আদালত। এমনটাই বলছে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন। প্রতিবেদন অনুসারে, পারাস্তুদের অনলাইনে ‘অশ্লীল এবং অনৈতিক’ কনটেন্ট পরিবেশনে দোষী সাব্যস্ত করেছে সেই কোর্ট। এই নিয়ে সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। তাদের মতে, ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।

Advertisement

২০২৪ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি অনুষ্ঠান করেছিলেন ২৯ বছরের পারাস্তু এবং তাঁর দলের আট জন। সেখানে ‘আজ় খুনে জাভানানে বতন’ (দেশের যুবসমাজের রক্ত থেকে) গানটি গেয়েছিলেন। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, সে সময় তাঁর মাথায় হিজাব ছিল না (আনন্দবাজার ডট কম সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি)। সেই অনুষ্ঠান নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক। সেই ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বার দেখা হয়েছে।

তার পরে পারাস্তু এবং তাঁর সহশিল্পীদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর ওই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশের জন্য মামলা রুজু করে প্রশাসন। এ বার সেই মামলার রায় দিয়েছে ইরানের এক প্রাদেশিক আদালত। ইরানের কোনও বিচারবিভাগী সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম এই খবর প্রকাশ করেনি। আদালতের কাগজপত্র দেখে বিষয়টি প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। তারা জানিয়েছে, দু’বছর পারাস্তুদের দেশ ছাড়তে বারণ করা হয়েছে। দু’বছর অনুষ্ঠানও করতে পারবেন না তাঁরা।

Advertisement

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে ইরানে পরিচালিত আমেরিকার এক মানবাধিকার সংগঠনের নির্দেশক বাহার ঘান্দেহারি বলেন, ‘‘পারাস্তু-সহ ন’জনের এই শাস্তি আবার প্রমাণ করে ইরানে মানবাধিকারের পরিস্থিতি একই রয়েছে। যুদ্ধের সময়ে সে দেশের প্রশাসন নিজেদের ভাবমূর্তি শোধরাতে যতই প্রচার করুক, পরিস্থিতির কোনও বদল হয়নি।’’ তাঁর দাবি, ইরানে মোস্তবা খামেনেইয়ের নতুন প্রশাসন যা প্রচার করছে, তার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক রয়েছে। দাদবানের মানবাধিকার আইনজীবী মোয়েইন খাজ়ায়েলি জানান, পারাস্তুর শাস্তির কোনও আইনি ভিত্তি নেই। ইরানের অপরাধ আইনে মহিলাদের সঙ্গীত পরিবেশনকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়নি।

২০২২ সালে হিজাব-বিরোধী প্রতিবাদে নেমেছিলেন ইরানের বহু মানুষ। ২০২২ সালের বিক্ষোভে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি ছিল, তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। হিজাব না পরে রাস্তায় বেরোনোর ‘শাস্তি’ হিসাবে মাহশা আমিনি নামে তরুণীকে আটক করেছিল পুলিশ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গাড়িতে চেপে সপরিবারে কুর্দিস্তান থেকে রাজধানী তেহরানে আসছিলেন ২২ বছরের মাহশা। সেই সময়ে তাঁদের গাড়ি আটকায় ইরানের পুলিশ। গাড়িতে মাহশা হিজাব পরেননি বলে পরিবারের সামনেই মাহশাকে গ্রেফতার করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। পরে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয় ওই তরুণীর। তার পর থেকে ইরানে দিকে দিকে অসন্তোষের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তায় নেমে হিজাব পোড়ানো থেকে শুরু করে মাথার চুল কেটে ফেলা— বিভিন্ন অভিনব পন্থায় প্রতিবাদে নামেন সে দেশের পুরুষ-মহিলা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement