লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা। ছবি: এএফপি।
সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে আবার হামলা চালাল ইজ়রায়েল। শুক্রবার নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইজ়রায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হানায় আট জন নিহত এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। হতাহতদের মধ্যে এক মহিলা ও একটি শিশু রয়েছে। পাশাপাশি টায়ার জনপদ এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় হামলায় আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে লেবানন সরকার এবং সেনার দু’টি সূত্র উদ্ধৃত করে পশ্চিম এশিয়ার সংবাদমাধ্যম আল জাজ়িরা জানিয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই নিয়ে গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইজ়রায়েলি হানায় নিহতের সংখ্যা ২৬০০ ছাড়াল।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজ়রায়েলি সেনার হামলার পরেই প্রত্যাঘাত করেছিল তেহরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। জবাবে রাজধানী বেইরুট-সহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করেছে তেল আভিভ। এর জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সেখানে মোতায়েন রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত-সহ ৩০টি দেশ। ওই পরিস্থিতিতে গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন।
ইজ়রায়েল এবং লেবাননের সংঘর্ষ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথে অন্যতম ‘কাঁটা’। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সমঝোতার ক্ষেত্রেও এই সংঘর্ষবিরতি অতি প্রয়োজন। ইরান বার বার দাবি করে এসেছে, সমঝোতা করতে হলে লেবাননে ইজ়রায়েলের আগ্রাসন আগে বন্ধ করতে হবে। সেই পরিস্থিতিতে লেবাননে নতুন করে ইজ়রায়েলি হানায় পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা। প্রসঙ্গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজ়ায় প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলি সেনার অভিযান শুরুর পরেই দক্ষিণ লেবাননে সক্রিয় শিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী হিজ়বুল্লা তেল আভিভের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছিল। তার পরে এক বছর ধরে দু’তরফের সংঘর্ষ চলে। শেষপর্যন্ত গত বছরের গোড়ায় আমেরিকা এবং ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। বলা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতির সময়ে দুই দেশ থেকে সাধারণ মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবেন। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর মার্কিন ও ইজ়রায়েলি হানার জেরে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়।