লেবানন সীমান্তে ইজ়রায়েলি বাহিনী। ছবি: রয়টার্স।
আত্মরক্ষা এবং আক্রমণ— উভয়ের জন্যই তৈরি রয়েছে ইজ়রায়েল। লেবাননের রাজধানী বেইরুটে পর পর হামলার পরে এমনটাই দাবি করল ইজ়রায়েলি সেনা। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশ যখন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে, তখন পশ্চিম এশিয়ার অপর প্রান্তে সংঘর্ষ অব্যাহত।
ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা দীর্ঘ দিন ধরেই লেবাননে সক্রিয়। শান্তি সমঝোতার জন্য ইরান যে শর্তগুলি দিয়েছে, তার মধ্যে লেবানন-সংঘর্ষও রয়েছে। ইরানের দাবি, লেবাননেও হামলা বন্ধ করতে হবে ইজ়রায়লেকে। এমতাবস্থায় বেইরুটে ইজ়রায়েলি হানার পর শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে আমেরিকার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরানও।
রবিবার বেইরুটের দক্ষিণে হিজ়বুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইজ়রায়েলি বাহিনী। লেবাননের সরকারি সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। ইজ়রায়েলের দাবি, আগে হিজ়বুল্লা তাদের উপর হামলা করেছে। উত্তর ইজ়রায়েলে জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল লক্ষ্য করে হিজ়বুল্লা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে অভিযোগ। এটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সামিল বলেই মনে করছে ইজ়রায়েল। তেল আভিভের দাবি, সেই কারণেই হিজ়বুল্লা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা।
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাট্জ় এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হিজ়বুল্লার আক্রমণের জবাব দিতেই বেইরুটের দাহিয়েহ এলাকায় হামলা হয়েছে। লেবাননের সরকারি সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, দাহিয়েহ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে হামলা হয়েছে রবিবার। তাতে দু’জন নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন কমপক্ষে চার জন। লেবাননেন নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে রয়টার্স জানাচ্ছে, একই নিশানায় দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল। যদিও ইজ়রায়েলের দাবি, তারা হিজ়বুল্লার একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে হিজ়বুল্লার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। হামলার পরে এক্স হ্যান্ডলে নেতানিয়াহু লেখেন, “ইজ়রায়েলি ভূখণ্ডে গোলাবর্ষণ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”