ভাইরাল পুঞ্চ-কুন। ছবি: সংগৃহীত।
জন্মের পরে মা বেঁচে থাকতেও সে ‘অনাথ’ হয়েছিল। ম্যাকাক প্রজাতির ছোট্ট বাঁদরের চাহিদা বলতে ছিল একটু মমত্ব, একটু আলিঙ্গন ও উষ্ণতা। জাপানের ইচিকাওয়া শহরের চিড়িয়াখানার খুদে বাঁদরটি ‘মা’ ও ‘প্রাণ’ খুঁজে নিয়েছিল নিষ্প্রাণ ‘নরম খেলনা’ ওরাং ওটাংয়ের মধ্যে। জ্যুলজিক্যাল ও বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্মীদের দেওয়া সেই খেলনাই হয়ে উঠেছিল বিশ্বাসযোগ্য ‘আশ্রয়’ হয়ে উঠেছিল পুঞ্চ-কুনের। অবশেষে দল কাছে টেনে নিল তাকে। শিশু পেল কোল, উষ্ণ আলিঙ্গন।
কোলে পুঞ্চ। ছবি: সংগৃহীত।
তার মা তাকে অস্বীকার করেছিল জন্ম দেওয়ার পরেই, দলে নেয়নি বাকিরাও। বরং হতে হয়েছিল হেনস্থার শিকার। অগত্যা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া খেলনার মধ্যেই সে খুঁজেছিল মায়ের আদর। ওই খেলনাই ছিল তার সর্বক্ষণের সঙ্গী। যেখানেই যাক না কেন তার চেয়ে বড় খেলনাটিকে সে টেনে টেনে নিয়ে যেত। তবে একটা প্রাণ তো অন্য প্রাণের খোঁজে থাকে। তাই চিড়িয়াখানার কর্মীরা খাবার দিতে এলে সে দৌড়ে গিয়ে আঁকড়ে ধরত তাঁদের পা। উঠে পড়ত কোলে। খাবারের চেয়ে তার অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল একটা কোলের। বিভিন্ন সময়ের সেই সব মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। দূরে থেকেও সে নেটাগরিকদের প্রিয় হয়ে গিয়েছিল।
কোলে ওঠার চেষ্টা করছে ম্য়াকক প্রজাতির ছোট্ট বাঁদর পুঞ্চ। ছবি: সংগৃহীত।
প্রথম মমত্বের স্বাদ। ছবি: সংগৃহীত।
অবশেষে বহুকাঙ্খিত আদর পেল পুঞ্চ। গত বছরের জুলাইয়ে জন্মের প্রায় সাত মাস পরে সে পেল কোল। সম্প্রতি একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ওই দলের একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঁদর তাঁকে গভীর মমত্বে যত্ন করছে। অন্য একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে একটি বাঁদর কোলে টেনে নিয়েছে তাকে। দেখা গিয়েছে, নিজের চেয়ে একটু বড় হলেও আরও একটি খুদে হয়েছে তার বন্ধু। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, শিশু বাঁদরের প্রতিটি পদক্ষেপ তাঁদের নজরে। যত্নের অভাব হয়নি।