বাংলাদেশে তাড়া খেয়ে জলে ডুবে মৃত্যু যুবকের। — প্রতীকী চিত্র।
বাংলাদেশে ফের উদ্ধার হল এক যুবকের দেহ। মৃতের নাম মিঠুন সরকার। নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সি ওই যুবককে চোর সন্দেহে ধাওয়া করে একদল জনতা। উত্তেজিত জনতার নাগাল থেকে বাঁচতে খালের মধ্যে ঝাঁপ দেন মিঠুন। পরে সেই খাল থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। তবে মিঠুন আদৌ চুরি করেছিলেন কি না, তার কোনও প্রমাণ এখনও পুলিশের হাতে আসেনি।
স্থানীয় সময় অনুসারে ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ। নওগাঁর হাট চকগৌরি বাজার এলাকায় মিঠুনকে চোর সন্দেহ ধাওয়া করে একদল জনতা। তাড়া খেয়ে বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি খালের মধ্যে ঝাঁপ দেন তিনি। এর পর থেকেই মিঠুনের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। খবর যায় রাজশাহী বিভাগের ডুবুরিদলের কাছে। খালে ডুবুরি নামিয়ে মিঠুনকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুজির পরে শেষে খাল থেকে মিঠুনের দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে স্থানীয় পুলিশের অনুমান, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের।
এ বিষয়ে নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তাফা জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দলকে সেখানে পাঠানো হয়। রাজশাহী থেকে ডুবুরিদলও আনা হয়। দেহ উদ্ধারের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মোস্তাফা এ-ও জানান, মিঠুন চোর কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য নেই পুলিশের কাছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে হত্যা করে একদল জনতা। পিটিয়ে হত্যা করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শরীয়তপুরেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় খোকন দাস নামে আর এক যুবকের গায়ে।তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশের যশোরে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে এবং গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এক বিধবা মহিলাকে গণধর্ষণেরও অভিযোগ উঠে এসেছে ঝিনাইদহে। সোমবার রাতে নরসিংদীতে এক যুবককে কুপিয়ে খুনেরও অভিযোগ উঠেছে।
বস্তুত, বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে সে দেশের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর এবং তাণ্ডব চলে। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের উপরেও আক্রমণের কিছু ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহের ঘটনা নিয়ে মুখ খোলে ভারতও। দীপুহত্যায় বিচারের দাবিতে সরব হয় নয়াদিল্লি। সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকার। যদিও সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের উদ্বেগকে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, সংখ্যালঘুরা নিরাপদেই রয়েছেন। ময়মনসিংহের ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই দাবি তাদের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটনায় সে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই যাচ্ছে।