ফল ঘোষণা স্থগিত, কারচুপির নালিশ

কথা ছিল বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের সব আসনের ফলাফল প্রকাশ হয়ে যাবে। কিন্তু মাত্র ৩০ শতাংশ ভোট গণনার পরেই নির্বাচন কমিশন জানাল, কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘোষণা স্থগিত থাকছে।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০১৮ ০৩:০৭
Share:

ফাইল চিত্র।

কথা ছিল বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের সব আসনের ফলাফল প্রকাশ হয়ে যাবে। কিন্তু মাত্র ৩০ শতাংশ ভোট গণনার পরেই নির্বাচন কমিশন জানাল, কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘোষণা স্থগিত থাকছে। কমিশনের হিসেবে সেই সময়ে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২৭২টি আসনের মধ্যে ১১৩টি আসনে এগিয়ে। নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল) ৬৬টি এবং বিলাবল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপল্স পার্টি (পিপিপি) ৩৯টি আসনে এগিয়ে।

Advertisement

সকালে স্থগিত হয়ে যাওয়ার পরে সন্ধ্যা নেমে গেলেও আর কোনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন, কিন্তু ইতিমধ্যেই নিজেকে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছেন ইমরান খান। টেলিভিশনে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতায় নিজের ভবিষ্যৎ কর্মসূচিও ব্যাখ্যা করেছেন। আর শরিফ ও ভুট্টোর দল জানিয়ে দিল— ইমরানকে ক্ষমতায় বসাতে ফলাফল সাজানো হচ্ছে। ব্যাপক কারচুপি করা হচ্ছে ভোট গণনায়। সেই জন্যই ফল ঘোষণা স্থখগিত করা হয়েছে।

পিপিপি ও পিএমএল-এর নেতারা বলছেন, পাকিস্তানের অমিতবিক্রম সেনাবাহিনী ও তাদের নিয়ন্ত্রিত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর নক্সা বাস্তবায়িত করতেই মাত্র ৩০ শতাংশ গণনার পরে ফল ঘোষণা স্থগিত করে দিয়েছে কমিশন। ইমরান খানকে তখতে বসাতে চায় সেনা। সে জন্যই কারচুপির মাধ্যমে মানুষের রায়কে বদলে দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

তবে নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, নেহাতই কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দেরি। কমিশনের সচিব বাবর ইয়াকুব বলেন, ‘‘কোনও ষড়যন্ত্র নয়। কারও চাপেও ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়নি। নেহাত প্রযুক্তির গোলমালেই এটা হয়েছে।’’ নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, গণনা কেন্দ্র থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরে তথ্য পৌছে দিতে কম্পিউটার নেটওয়র্কের যে বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, গড়বড় ধরা পড়েছে সেখানেই। অনেকে বলছেন, রেজিস্ট্রেশন করার সময়েই প্রিসাইডিং অফিসারেরা সমস্যায় পড়ছিলেন। অনেকে বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছিলেনও। কিন্তু কমিশনের অফিসারের সে সময়ে বিষয়টি গা করেননি। গণনা শুরুর পরে যখন তথ্য আসা বন্ধ হয়ে যায়, সে সময়েই তাঁদের টনক নড়ে।

নিজেকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণার পরে ইমরান খান অবশ্য পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের ইতিহাসে সব চেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এ বারে। বিরোধীদের সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে, বিরোধীরা যদি কারচুপির নির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে পারে, তিনি তার নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement