পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের সীমান্তে হামলা চালিয়েছে। —ফাইল চিত্র।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের সংঘাত শুরু হয়ে গেল। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রাজধানী ইসলামাবাদের মসজিদে হামলার বদলা নিল পাকিস্তান। আফগান সীমান্তে অবস্থিত সাতটি জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে শনিবার গভীর রাতে। পরে সে দেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক থেকে কঠোর বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। ফের সতর্ক করা হয়েছে আফগানিস্তানকে।
পাক মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, গোয়ান্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাক-আফগান সীমান্তের সাতটি জঙ্গিঘাঁটি চিহ্নিত করেছিল সেনাবাহিনী। শনিবার রাতে সেখানে সশস্ত্র অভিযান চালানো হয়। সাতটি ঘাঁটিই ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযোগ, সেখানে সন্ত্রাসবাদীরা আশ্রয় নিয়েছিল এবং সেখান থেকেই ইসলামাবাদের মসজিদে আত্মঘাতী হামলা-সহ পাকিস্তানের অন্দরে একাধিক হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বাজৌর এবং বান্নু এলাকায় সাম্প্রতিক হামলা, রমজান চলাকালীন হামলার উল্লেখ করা হয়েছে পাক বিবৃতিতে। দাবি, এই সমস্ত হামলার নেপথ্যে যে পাকিস্তানি তালিবান গোষ্ঠীর হাত রয়েছে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী নিশ্চিত। ওই সমস্ত গোষ্ঠীর নেতা আফগান। এমনকি, আফগানিস্তানের গোষ্ঠীই এই সমস্ত হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পাকিস্তান বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সবসময় আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। পাশাপাশি দেশের জনগণের নিরাপত্তাও তাদের অগ্রাধিকার। শনিবারের হামলায় জঙ্গিঘাঁটি ছাড়া অন্য কোথাও কোনও ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনিরের বাহিনী। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে ফের সতর্ক করেছে ইসলামাবাদ। বলা হয়েছে, তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের শান্তি যারা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে দমন করতে হবে। আফগানিস্তানকে দোহা চুক্তি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিও আকর্ষণ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এমনকি, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য বার বার আঙুল তোলা হয়েছে ভারতের দিকেও। অভিযোগ, ভারতের মদতে আফগানিস্তানে বসে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িতও হচ্ছে ভারতের মদতে। ভারত সরকার দীর্ঘ দিন ধরে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পাকিস্তান তাদের বক্তব্যের পক্ষে কোনও প্রমাণও দেখাতে পারেনি। ইসলামাবাদের মসজিদে গত ৬ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল। তাতে মৃত্যু হয়েছিল ৩১ জনের। পাক সরকার সেখানেও ভারতকে দোষারোপ করেছিল। অভিযোগ উড়িয়ে কঠোর বিবৃতি দিয়েছিল নয়াদিল্লি।