Unstable Iran

‘খামেনেইয়ের মৃত্যু হোক’, স্লোগান ইরানে

কূটনীতিকদের একাংশের মতে আবার আমেরিকা পরিচালিত হচ্ছে ইজ়রায়েল দ্বারা। ট্রাম্প যা যা বলছেন বা করছেন, তা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অঙ্গুলি হেলনে।

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৯
Share:

অশান্তিতে নিহত সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীদের শেষকৃত্যে হাহাকার। সোমবার তেহরানে। ছবি: রয়টার্স।

জল মাপছে আমেরিকা। ইরান-পরিস্থিতি নিয়ে এমনই ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে তো দিচ্ছেনই না, বরং ইরান যদি হামলা চালায়, তার পরিণতি যে চরম হবে, তা-ও স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। বলেছেন, ‘‘আমরা যে আঘাত হানব, তা হয়তো অতীতে কখনও দেখেনি ওরা।’’

বিক্ষোভকারীদের এখন সরাসরি ‘জঙ্গি’ বলেই উল্লেখ করছে ইরান সরকার। এক দিকে তারা বলছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ শুনে দেখবে তারা। উল্টো দিকে তারা মানুষকে হুমকি দিচ্ছে, ‘‘বিক্ষোভকারী ও জঙ্গিদের থেকে দূরে থাকুন।’’ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ দিন বলেন, অশান্তি সৃষ্টি করে ইরানে অচলাবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল।

সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প আজ বলেন, ‘‘একটা সীমা পর্যন্ত সহ্য করব। ইরান ক্রমশ সেই বিপদ-সীমার দিকে এগোচ্ছে। মনে হচ্ছে এটা সবে শুরু।’’ কূটনীতিকদের একাংশের মতে আবার আমেরিকা পরিচালিত হচ্ছে ইজ়রায়েল দ্বারা। ট্রাম্প যা যা বলছেন বা করছেন, তা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অঙ্গুলি হেলনে। ইজ়রায়েল অবশ্য বলছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে চাপানউতোর চলছে, তার উপর নজর রাখছে তারা। রাতে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়োর কথা হয়েছে ইরান-পরিস্থিতি নিয়ে। তবে দু’পক্ষের কী আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

ইরান সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখলেও বেশ কিছু ছবি-ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। এর পিছনে রয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট পরিষেবা। একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তেহরানের কাছে কাহরিজ়াক শহরে একটি ফরেন্সিক ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির সামনে উপচে পড়ছে ভিড়। প্রিয়জনের মৃতদেহের সন্ধানে দাঁড়িয়ে তাঁরা। আর একটি উপগ্রহচিত্রে কমপক্ষে ৫০টি বডি-ব্যাগ দেখা গিয়েছে। সাংবাদিকেরা জড়ো হয়েছেন সেখানে। কথা বলছেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে। একটি শেষকৃত্যের ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রিয়জনেরা মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ে স্লোগান দিচ্ছেন, ‘‘খামেনেইয়ের মৃত্যু হোক।’’

ইরান সরকারের অবশ্য দাবি, বিক্ষোভকারীরাই হিংসা ছড়াচ্ছেন। আজ ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ব্রিটেন, জার্মানি, ইটালি ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠানো হয়। ইরান প্রশাসনের তরফে তাঁদের ভিডিয়ো ফুটেজে দেখানো হয়েছে, কী ভাবে ‘দাঙ্গাকারীরা’ হিংসা ছড়াচ্ছেন। ইউরোপের এই চার দেশই বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে সরব হয়েছে। ৫০০-র বেশি বিক্ষোভকারী নিহত ইরানে। হাজারের কাছাকাছি জখম। ১০ হাজারের বেশি জেলবন্দি। নিহতদের মধ্যে এক ফুটবল রেফারির কথা জানা গিয়েছে। ২৬ বছর বয়সি আমির মহম্মদ কুহকানকে গুলি করে মারা হয়। ক্ষুব্ধ প্রিয়জনেরা বলছেন, ‘‘সরকার ওকে মেরে ফেলল।’’ ২৩ বছর বয়সি ছাত্রী রুবিনা আমিনিয়ানকে পিছন থেকে গুলি করা হয়। অনেকে বলছেন, ওঁর মাথায় গুলি লেগেছিল। ইউরোপের দেশগুলির রাষ্ট্রদূতদের কাছে ইরান সরকারের দাবি, ওরা মোটেই শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে না। ওই আন্দোলনকারীরা আসলে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের ‘ভাড়াটে গুন্ডা’।

ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সুরেই তাদের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ আজ আমেরিকাকে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকা যদি সামরিক আগ্রাসন চালায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলায়, তা হলে চরম পরিণতি হবে। কালিবাফ বলেন, ‘‘দেখবেন এই অঞ্চলে আপনাদের সব সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে... তাতে রয়েছে আমেরিকান সেনাঘাঁটি, আমেরিকার জাহাজ, আমেরিকার সেনাবাহিনী।’’ তাঁর হুঙ্কার— ‘‘আগুন জ্বলবে।’’ সংবাদ সংস্থা

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন