Jamaat in Bangladesh

জামাত প্রধানের সঙ্গে বৈঠক সারলেন ঢাকার ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত! বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে জল মাপছে ব্রিটেনও

জামাত হল বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল। দেশটির ৫৫ বছরের ইতিহাসে একাধিক বার নিষিদ্ধ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এই দলকে। তবে হাসিনা সরকারের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসাবে উঠে এসেছ জামাত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১২
Share:

জামায়েতে ইসলামীর প্রধান শফিকুর রহমান। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি জামায়েতে ইসলামী (যা জামাত নামেই পরিচিত)-র প্রধান শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক সারলেন ঢাকার ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত। রবিবার দুপুরে ঢাকার বসুন্ধরায় জামাতের দফতরে যান ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারা কুক। এই বৈঠককে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলেই ব্যাখ্যা করছে জামাত। তবে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

Advertisement

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক সারেন কুক। তার পরে রবিবার জামাতের আমির শফিকুরের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। অনেকেই মনে করছেন, সে দেশের নির্বাচনের আগে জল মেপে নিতে চাইছে ব্রিটেন। বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী হয়েছে আমেরিকাও। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের নির্বাচনমুখী প্রধান দলগুলির সঙ্গে আলোচনা সেরে নিচ্ছে ব্রিটেনও।

বাংলাদেশের ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে রবিবার শফিকুর-কুক বৈঠকের ছবি পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টের সঙ্গে লেখা হয়, বাংলাদেশের অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে কথা হয়েছে দু’জনের। জামাত শিবিরও সমাজমাধ্যমে এই বৈঠকের ছবি পোস্ট করেছে। ওই ছবির সঙ্গে তারাও নির্বাচন বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, “নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদী দু’পক্ষই।”

Advertisement

বস্তুত, জামাত হল বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল। দেশটির ৫৫ বছরের ইতিহাসে একাধিক বার জামাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেও এই দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। তবে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে আবার সক্রিয় হয়েছে জামাত।

জামাত শিবির বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়ত আইন মেনে সরকার পরিচালনার পক্ষপাতী। এমনকি, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের কাজের সময়ও কমিয়ে দিতে চায় তারা। সন্তানদের দেখভালের জন্য মহিলাদের কাজের সময় কমিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী জামাত। যদিও এখন জামাতের দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামজিক সমস্যা দূর করাই তাদের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে চায় তারা। নির্বাচনের আগে নিজেদের এই অবস্থানকেই তারা বেশি করে তুলে ধরতে চাইছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement