Donald Trump

ভেনেজ়ুয়েলা নয়, অন্য দুই দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মাদক ঢোকে আমেরিকায়, ট্রাম্পের দাবি খারিজ মার্কিন রিপোর্টেই

মার্কিন রিপোর্ট বলছে, মারিজুয়ানা এবং গাঁজা বাদে আমেরিকার মাদকসেবনকারীরা এমডিএমএ, এলএসডি-র মতো মাদকে আসক্ত। সে দেশের মাদকসেবনকারীদের অন্য একটি অংশ আবার কোকেন সেবনেও অভ্যস্ত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৭
Share:

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক চোরাচালান করার অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে কার্যত খারিজ করে দিচ্ছে আমেরিকার সরকারি রিপোর্ট। আমেরিকায় মাদক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত (ইউএস ন্যাশনাল সার্ভে অন ড্রাগ ইউজ় অ্যান্ড হেল্‌থ) সমীক্ষার ২০২৪ সালের রিপোর্ট বলছে, মেক্সিকো এবং কলম্বিয়া থেকেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মাদক ঢোকে মার্কিন মুলুকে। কী ভাবে ঢোকে, তা-ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।

Advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকায় ২ কোটি ৭৭ লক্ষ মানুষ মারিজুয়ানা বাদেও অন্যান্য অবৈধ মাদক সেবন করে থাকেন। ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ রিপোর্ট’ বলছে, অবৈধ মাদক সেবনকারীর সংখ্যায় অন্য সমস্ত দেশকে ছাপিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন রিপোর্ট বলছে, মারিজুয়ানা এবং গাঁজা বাদে আমেরিকার মাদকসেবনকারীরা এমডিএমএ, এলএসডি-র মতো মাদকে আসক্ত। সে দেশের মাদকসেবনকারীদের অন্য একটি অংশ আবার কোকেন সেবনেও অভ্যস্ত।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভেনেজ়ুয়েলা আদৌ আমেরিকায় পাচার হওয়া অবৈধ মাদকের উৎস নয়। বরং দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ থেকে কিছু পরিমাণ কোকেন জলপথে চলে যায় পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলিতে। রিপোর্টে এ-ও দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়েই সবচেয়ে বেশি অবৈধ মাদক ঢোকে ট্রাম্পের দেশে। কখনও জলপথে, কখনও সুড়ঙ্গ খুঁড়ে, কখনও আবার মার্কিন এজেন্টদের ব্যবহার করে এই চোরাচালান চালানো হয়।

Advertisement

রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি রিপোর্ট বলছে, ২০২৩ সালে গোটা বিশ্বে ৩৭০৮ মেট্রিক টন কোকেন তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ২,৬০০ মেট্রিক টনই তৈরি হয়েছে কলম্বিয়ায়। কলম্বিয়ার ২,৫৩,০০০ হেক্টর জমিতে কোকা চাষ হয়। আর কোকেন তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল এই কোকাই। সে দেশে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অপরাধমূলক সংগঠনও। মার্কিন রিপোর্ট অনুযায়ী, কলম্বিয়া থেকে পাচার হওয়া কিছু মাদক ভেনেজ়ুয়েলা হয়ে হয়তো আমেরিকায় পৌঁছোয়। কিন্তু নিকোলাস মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক পাচারের যে অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প, তার তথ্যগত কোনও ভিত্তি মেলেনি ওই রিপোর্টে।

প্রসঙ্গত, ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ তুলছে যে, আমেরিকায় মাদক পাচার করছে তারা। এমনকি মাদকসন্ত্রাসে মদত জোগাচ্ছে। আমেরিকায় অনুপ্রবেশকারী পাঠাচ্ছে মাদুরোর দেশ। তার পরই গত শনিবার মধ্যরাতে (স্থানীয় সময়) ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ‘সেফ হাউস’ থেকে মার্কিন বাহিনী তুলে নিয়ে যায় সস্ত্রীক মাদুরোকে। উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকায়। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন জেলে বন্দি মাদুরো। তাঁকে বন্দি করার পর ট্রাম্প মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তাঁর বার্তা, মাদকপাচার এবং অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে আমেরিকা কোনও আপসের পথে হাঁটবে না। সরাসরি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর নামোল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ওঁর কোকেন তৈরির কারখানা আছে। হ্যাঁ, আমি আগেও এ কথা বলেছিলাম। আবারও বলছি, পেট্রোর মাদক তৈরির একাধিক কারখানা রয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement