মার্কিন অভিবাসন দফতরের হাতে আটক হওয়া সেই শিশুকন্যা। ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকায় রেহাই পেল না দু’বছরের শিশুও! বাবার সঙ্গে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দু’জনকেই আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠালেন মার্কিন অভিবাসন দফতরের কর্তারা। গত বৃহস্পতিবার আমেরিকার মিনেসোটায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রথমে বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসের ডিটেনশন সেন্টারে পাঠালেও পরে এক ফে়ডারেল বিচারকের নির্দেশে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ দু’বছরের মেয়েকে নিয়ে দোকান থেকে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা এলভিস জোয়েল টিই। পথেই তাঁদের আটক করে পুলিশ। এলভিসের গাড়ির জানলার কাচও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সন্ধ্যায় ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দেন, রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে যে করে হোক শিশুটিকে ছেড়ে দিতে হবে। বিচারক বলেন, ‘‘দু’বছরের শিশুটির যে কোনও অপরাধমূলক ইতিহাস নেই, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না!’’ কিন্তু বিচারকের সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে দু’জনকেই বিমানে চাপিয়ে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এলভিসের পরিবারের আইনজীবী ইরিনা ভায়নারম্যান সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, শুক্রবার বাবা ও মেয়ে— দু’জনকেই মিনেসোটায় ফিরিয়ে এনেছেন অভিবাসন দফতরের কর্তারা। দু’বছরের শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাবা এলভিস এখনও ছাড়া পাননি। ইরিনা বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা সত্যিই অকল্পনীয়। এই ভয়াবহতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইকুয়েডরের বাসিন্দা ওই পরিবারের আশ্রয়ের আবেদন এখনও বিচারাধীন। তবে তাঁদের দেশছা়ড়া করার কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
বাবা ও মেয়েকে কেন আটক করে টেক্সাসে পাঠানো হয়েছিল, সে সম্পর্কে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেয়নি মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। তবে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার টহল দেওয়ার সময় আইসিই এজেন্টরা এলভিসকে সন্দেহভাজন বলে শনাক্ত করেন। অবৈধ ভাবে মার্কিন মুলুকে ঢোকার জন্য তাঁকে আটক করতে যান আধিকারিকেরা। কিন্তু অভিযোগ, গাড়ির দরজা খুলতে চাননি এলভিস। জানলার কাচও নামাতে রাজি হননি। এর পরেই বাধ্য হয়ে জানলার কাচ ভেঙে ফেলেন আইসিই-র কর্তারা। বাবা-মেয়েকে আটক করা হয়।
প্রসঙ্গত, দু’দিন আগেই মিনেসোটায় একটি পাঁচ বছরের শিশুকে পণবন্দি করে তার পরিবারকে আটক করেছিল মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক দফতর (আইসিই)-র কর্মীরা। লিয়াম কোনেহো রামোস নামে প্রি-স্কুলের পড়ুয়া ওই শিশু বাড়ি ফেরার পথে আইসিই-র কর্তারা তাকে আটক করে নিয়ে যান। তার পর তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করে বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়। সেখানেই ঠাঁই হয় খুদে লিয়ামেরও। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই রকমের ঘটনা ঘটল মিনেসোটায়।