(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
আমেরিকা-ইরান শান্তিসমঝোতার একটি রূপরেখা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। ১৪ দফা সমঝোতায় মূলত জোর দেওয়া হয়েছে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উপরে। তবে আমেরিকা যে মউ-এর খসড়া প্রকাশ করেছে, তা খুবই সংক্ষিপ্ত। সিএনএন জানাচ্ছে, ১৪ দফা পরিকল্পনার লিখিত ভাষ্য গুটিয়ে ফেলা হয়েছে ৮০০ শব্দেরও কমে। যার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উত্তর মেলেনি সমঝোতার খসড়ায়। অনুমান করা হচ্ছে সেগুলি পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত বর্ণনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
খসড়া চুক্তিতে কী কী রয়েছে, তা মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক ফোনকলে বর্ণনা করেছেন সে দেশের সাংবাদিকদের কাছে। জানা গিয়েছে, আমেরিকা-ইরান এবং তাদের ‘সহযোগী পক্ষগুলি’ লেবানন-সহ সর্বত্র অবিলম্বে স্থায়ী ভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে এই মউ স্বাক্ষর করছে। তবে সেখানে ‘সহযোগী পক্ষ’ বলতে নির্দিষ্ট ভাবে ইজ়রায়েল বা হিজ়বুল্লার কথা উল্লেখ নেই। অথচ ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লা সংঘাত এই শান্তি সমঝোতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরান একে অন্যের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না-করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার অর্থ কি ইরানে শাসক বদলের জন্য কোনও চাপ তৈরি না-করার বিষয়ে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প? ইঙ্গিত তেমন থাকলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও বর্ণনা নেই।
চুক্তি অনুযায়ী, ৩০ দিনের ইরান হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। যুদ্ধের আগে যে অনুপাতে জাহাজ চলাচল করত, তা ফিরিয়ে আনবে। তবে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল শেষ পর্যন্ত ইরানই নিয়ন্ত্রণ করবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি খসড়া চুক্তির লিখিত ভাষ্য থেকে। আমেরিকাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে বাহিনী সরিয়ে নেবে তারা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোন কোন এলাকা থেকে বাহিনী সরানো হবে, তা নির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি।
শান্তিসমঝোতায় এ-ও বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের জন্য কোনও বাণিজ্যিক জাহাজের থেকে কোনও অর্থ না নিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে ইরান। তার পরে কী হবে? সেই উত্তর নেই খসড়া চুক্তিতে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়েও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও বর্ণনা নেই প্রকাশ্যে আসা খসড়া চুক্তিতে।