ইরানের চার জায়গাকে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা আমেরিকার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
তেল, জাহাজ কোনও কিছুই ইরান থেকে বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। তেহরানের ‘লাইফলাইন’ হরমুজ়কে অবরুদ্ধ করে ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে চাইছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সোমবার সন্ধ্যা থেকেই হুরমুজ়কে অবরুদ্ধ করা হবে। আর তার পর থেকে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াতে চলেছে, সে দিকে তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল। অনেকেই বলছেন, হরমুজ়কে অবরুদ্ধ করে এ বার ইরানের অর্থব্যবস্থার সরাসরি আঘাত হানার চেষ্টা করতে চলেছেন ট্রাম্প।
শুধু ইরান নয়, আমেরিকা যদি ইরানের ‘লাইফলাইন’কেই অবরুদ্ধ করে দেয়, তা হলে বিশ্ববাজারে আবার অশোধিত তেলের দাম হুহু করে বাড়বে। কারণ, সামরিক সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখায় কয়েকশো বিদেশি জাহাজ আটকে ছিল হরমুজ়ে। কিন্তু ইরানের তেল এবং গ্যাসবাহী জাহাজগুলির অবাধ যাতায়াত ছিল। কিন্তু এ বার ইরানের ‘লাইফলাইনের’ চার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অবরুদ্ধ করে তাদের সমস্ত জাহাজও আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের চারটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। সেই চারটি জায়গা হল— খার্গ দ্বীপ, জাস্ক টার্মিনাল, বন্দর আব্বাস এবং বন্দর খুমেইনি। প্রসঙ্গত, সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তাঁদের এই ‘লাইফলাইন’কেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিয়েছে। যা খুলে দেওয়ার জন্য বার বার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু কিছু ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র ছাড়া বাকি দেশগুলির জাহাজ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে হরমুজ়ে। যদিও সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে বেশ কিছু জাহাজকে ছেড়ে দেয় ইরান। তবে এটাও ঘোষণা করে, হরমুজ়কে ব্যবহার করতে হলে প্রত্যেক জাহাজকে তাদের কর দিতে হবে। কোনও কোনও তেলবাহী জাহাজকে ২০ লক্ষ ডলার কর দিয়ে হরমুজ় পার করতে হয়েছে বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি। বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে এটাও দাবি করা হয়েছে যে, হরমুজ় দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ওমান তাদের অশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছোতে পারছে না। কিন্তু সামরিক সংঘাত চলাকালীন ইরান কিন্তু নিজেদের তেলবাহী জাহাজগুলির যাতায়াত জারি রেখেছিল। আমেরিকা এ বার সেই জায়গাতেই আঘাত করে ইরানের অর্থনীতি ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজ়ে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।
শনিবারই আমেরিকা এবং ইরানের শান্তিবৈঠক হয় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরেও কোনও সমাধানসূত্র বার হয়নি। বৈঠক ব্যর্থ হতেই ইরানের ঘাড়ে দায় ঠেলে আমেরিকা। যদিও পাল্টা ইরান দাবি করে, বিশ্বস্ততার কোনও পরিবেশ ছিল না ওই বৈঠকে। আমেরিকা শুধু অজুহাত খুঁজছিল। আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতেই এই বৈঠক করে তারা। তবে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই বলেও জানায় ইরান। তার পরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, এ বার ‘প্ল্যান বি’ ব্যবহার করতে পারেন ইরানের বিরুদ্ধে। আর সেই ‘প্ল্যান বি’ হল, এ বার পাল্টা ইরানকে চার দিকে থেকে ঘিরে অবরুদ্ধ করা।