ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ঘোষণা হয়েছিল আগেই। সেই মতো বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল আমেরিকা। ব্লুমবার্গ-এর পরিসংখ্যান অনুসারে, হু-কে সমস্ত রকমের অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে আমেরিকার স্বাস্থ্য দফতর। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা হু-র দফতরগুলি থেকেও মার্কিন আধিকারিকদের আমেরিকায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আমেরিকার অভিযোগ, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন হু যথাযথ ভাবে কোভিড অতিমারির মোকাবিলা করতে পারেনি। হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, হু অন্য দেশের দ্বারা রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত এবং তার জন্য ওই সংস্থায় দীর্ঘ দিন ধরে কোনও সংস্কার হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই ট্রাম্প হু থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন। এক বছর পর আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেল আমেরিকা।
আমেরিকার কাছ থেকে হু-র বকেয়া রয়েছে ২৬ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা)। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দেশ যদি হু-র সদস্যপদ ছাড়ে, তবে এক বছর আগে তা নোটিস দিয়ে জানাতে হয়। তা ছাড়া ছাড়ার আগে বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দিতে হয়। এমন কোনও নিয়মের কথা অবশ্য অস্বীকার করেছে আমেরিকা।
ব্লুমবার্গের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত হু-কে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনুদান দিয়েছিল আমেরিকাই। গোটা বিশ্বে রোগনির্ণয়, রোগনির্মূলের কাজ করে থাকে এই সংস্থা। আমেরিকা এই সংস্থা থেকে সরে যাওয়ায় বিশ্বে পোলিও নির্মূলকরণ, প্রসূতি এবং শিশুদের পুষ্টিকরণের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।