এ বার ফ্রান্সের উপগ্রহচিত্রেও ধরা পড়ল ভাসমান বস্তু। রবিবার মালয়েশীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া এবং চিনের মতো ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ প্রান্তেরই কোনও এলাকায় সন্দেহজনক বস্তু ভাসতে দেখেছে ফ্রান্সের একটি উপগ্রহ। এবং এ ক্ষেত্রেও প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি নিখোঁজ বিমান বোয়িং ৭৭৭-ইআরের ধ্বংসাবশেষ হতে পারে। ফ্রান্স সূত্রে পাওয়া ছবিগুলি ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলীয় উদ্ধারকারী দলের দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার প্রশাসন।
তবে ঠিক কোন এলাকায় বস্তুটি ভাসতে দেখা গিয়েছিল, কবেই বা ছবিটি ফ্রান্সের উপগ্রহে ধরা পড়ে, সে সব ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি। ফলে এই বস্তুটির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া এবং চিনের নজরে আসা বস্তুগুলির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই ধন্দে উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টোনি অ্যাবট অবশ্য বেশ আশাবাদী। এ দিন তিনি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “এখনও কিছু নিশ্চিত ভাবে বলা না গেলেও এটা পরিষ্কার যে মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য কিছু সূত্র হাতে পেয়েছি আমরা। ফলে বিমানটির শেষ পরিণতি কী হয়েছিল, সেটা খুব তাড়াতাড়ি আমরা বুঝে যেতে পারব, এমন আশা করতেই পারি। ”
আর সে আশা জোরদার করছে শনিবারের তল্লাশি অভিযান থেকে উঠে আসা কিছু নয়া তথ্য। গত কাল অনুসন্ধান অভিযান চালানোর সময় একটি অসামরিক বিমানের নজরদারি দলের চোখে পড়ে অন্তত ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে বেশ কিছু কাঠের তক্তার মতো জিনিস ভাসছে। আর সেগুলির গায়ে জড়ানো রয়েছে চামড়ার বেল্ট। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই জানাচ্ছেন, এ ধরনের জিনিস বহু সময়ই বিমানের মালপত্রের সঙ্গে বাঁধা থাকে। অর্থাত্ যদি ওই এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে জিনিসগুলি ভাসতেই পারে। আর সে সম্ভাবনা জোরদার করছে আর একটি তথ্য। যে এলাকায় বস্তুগুলি গত কাল ভাসতে দেখেছিলেন নজরদারি দলের কর্মীরা, সেটি অস্ট্রেলিয়া এবং চিনের উপগ্রহ থেকে হদিস মেলা বস্তুগুলির খুব কাছেই ভাসছিল। ফলে সেগুলির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে, এ ধারণাই জোরদার হওয়া স্বাভাবিক।
এ দিন সকালে ওই বস্তুগুলিকে খতিয়ে দেখতে ফের এক বার ওই এলাকায় উড়ে যায় দু’টি বিমান। তবে কিছুই নজরে আসেনি। কিন্তু ফ্রান্সের দেওয়া তথ্য হাতে আসার পর নতুন উদ্যমে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। এ দিন প্রায় আট’টি বিমান(চারটি সামরিক এবং বাকি চারটি অসামরিক) ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ প্রান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালায়। দুই ভাগে চলে অনুসন্ধান অভিযান। কিন্তু তাতেও সমস্যা রয়েছে। আসলে পারথ থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে যে এলাকায় অনুসন্ধান অভিযান মোটামুটি কেন্দ্রীভূত, সেখানে পৌঁছতেই এত সময় চলে যাচ্ছে যে তল্লাশি চালানোর জন্য খুব কম সময় পাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা। তার উপর প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে দৃশ্যমানতার সমস্যা তো রয়েছেই। এ দিন সেই বাধা কাটাতে মাত্র তিনশো ফুট উচ্চতায় উড়েছে বিমানগুলি। যাতে ভাসমান যে কোনও বস্তুই খালি চোখে নজরে আসে। কিন্তু কিছুরই খোঁজ মেলেনি।
উত্তর করিডরেও তল্লাশি চলছে। মালয়েশীয় প্রশাসনের দাবি, যত দিন না পর্যন্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ মিলছে, তত দিন পর্যন্ত দুই করিডরেই তল্লাশি চলবে। অন্য দিকে, গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বিমানে চড়ার সামান্য কিছু আগে এক মহিলার ফোন পেয়েছিলেন পাইলট জাহারি আহমেদ শাহ। সেটাই শেষ ফোন। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, যিনি ফোনটি করেছিলেন, তিনি ভুয়ো পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সিমকার্ড কিনেছিলেন। সেই সিম থেকেই জাহারিকে ফোন করেন তিনি। তিনি কে, কী উদ্দেশ্যেই বা ভুয়ো পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সিম কিনেছিলেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই নয়া তথ্য জানতে পারার পর আরও জোর দিয়ে নাশকতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
এ প্রসঙ্গে জাহারির প্রাক্তন স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় এফবিআই। কিন্তু তাঁদের দাবি, মালয়েশীয় তদন্তকারীরা মহিলার উপর কোনও চাপ সৃষ্টি করতে চান না বলে এত দিন পরেও তাঁকে সে ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এফবিআই কর্তাদের ধারণা, জাহারি সম্পর্কে নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের হদিস দিতে পারবেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী।