ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
গরমের ছুটির পর ১ জুন থেকে স্কুল খুলেছে। খানিক বৃষ্টিতে গরমে স্বস্তি মিললেও আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর বর্ষার ঘাটতি থাকবে। প্রায় গোটা জুন মাস জুড়েই চলবে গরমের দাপট। স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল যে বিভিন্ন জেলায় গরমের দাপট বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্কুলগুলি নিজেদের মতো করে সময় নির্ধারণ করতে পারে। সেই মতো ১ জুন থেকে আগামী দু’সপ্তাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী স্কুলের সময়ের পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয় জেলাভিত্তিক স্কুলগুলিকে। সেই দু’সপ্তাহের মেয়াদই বৃদ্ধি করল স্কুলশিক্ষা দফতর।
সম্প্রতি জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকাগুলি ছাড়া রাজ্যের সমস্ত জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলি পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত সকালে ক্লাস করাতে পারবে।
এই বছর প্রথমে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি ছিল। পরে তা বৃদ্ধি করে ৩১ মে করা হয়। ১ জুন থেকে চালু হয় স্কুল। তবে স্কুল খুললেও গরমের তেজ অব্যাহত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছিল ফের কি স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেবে সরকার? এমন প্রশ্নের মধ্যেই গত সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুলশিক্ষা দফতর। গরমের ছুটির পরে স্কুল খোলার প্রথম দিনেই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে দফতর। সোমবার ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্কুল বন্ধ না রেখে জেলাভিত্তিক স্কুলগুলি সকালে ক্লাস করাতে পারবে।
ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এক জেলা স্কুল পরিদর্শক জানান, দফতরের তরফে বলা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী দু’সপ্তাহে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্কুলের সময়ের পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। কোনও বিশেষ জেলার নাম উল্লেখ না থাকলেও পাহাড়ি এলাকাগুলি ছাড়া প্রধানত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাগুলিতে সমস্যা অনেক বেশি বলে মনে করছে দফতর। এরপরই মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন ডিআই-র স্কুলগুলিকে এই নির্দেশ পাঠানো শুরুও হয়ে যায়। দফতরের এক কর্তা জানান, এমনিতেই গরমের ছুটি কিছুটা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে আবার ছুটি বাড়ালে পঠনপাঠনের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই আপাতত সকালে স্কুলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই গোটা প্রক্রিয়ার উপরে নজর রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট এসআই-দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে সমস্যা হবে ইন্টিগ্রেটেড স্কুলগুলির ক্ষেত্রে। সেই সব স্কুলে সকালে প্রাথমিক এবং দিবা বিভাগে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়ানো হয়। সে ক্ষেত্রে সব পড়ুয়াদের একই সময়ে অর্থাৎ সকালে ক্লাস হলে সমস্যা হতে পারে। ওই স্কুলগুলি কী করবে, তার উল্লেখ নেই বিজ্ঞপ্তিতে। এমনকি নয়া বিজ্ঞপ্তিতেও উল্লেখ নেই সে বিষয়ে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা স্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে কথা বলেই পরিকল্পনা করতে হবে বলেই জানা যাচ্ছে।