হুমায়ুন কবীর। — ফাইল চিত্র।
বেলডাঙা নয়, রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা বিধানসভা আসন থেকে লড়বেন বলে বুধবার জানিয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর। প্রথমে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, বেলডাঙা থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে পারেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক। ওই বেলডাঙাতেই ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরি করাচ্ছেন তিনি। কিন্তু বুধবার হুমায়ুন স্পষ্ট করে দিলেন, রাজ্যের কোন দুই আসন থেকে তিনি লড়বেন। সঙ্গে এ-ও জানালেন, তৃণমূলকে ‘শিক্ষা দিতে’ রণকৌশল বদলেছেন। মনে করা হচ্ছে, নওদা আসনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের যে অভিযোগ উঠেছে, তাকেই কাজে লাগাতে চান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন। আর সেই মতোই সাজাচ্ছেন প্রার্থী তালিকা।
বুধবার দুপুরে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৮২টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেন হুমায়ুন। নওদা আসনে আবার বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মমতাজ খানকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সেই আসনে সাহিনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে কোমর বাঁধছেন তৃণমূলের নিলম্বিত নেতা হুমায়ুন। কেউ কেউ মনে করছেন, নওদায় তৃণমূলের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের’ যে অভিযোগ রয়েছে, তা থেকে ফায়দা তুলতে এই পদক্ষেপ করেছেন তিনি। স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, সাহিনাকে তৃণমূল আবার প্রার্থী করায় দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিকেই হুমায়ুন কাজে লাগাতে চাইছেন বলে খবর।
রেজিনগরে যে হুমায়ুন লড়তে পারেন, তা নিয়ে আগেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই সঙ্গে শোনা যাচ্ছিল, বেলডাঙা থেকেও লড়বেন তিনি। কারণ, সেখানেই তৈরি হচ্ছে ‘বাবরি মসজিদ’, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কিন্তু তা না-করে বেলডাঙায় দলের রাজ্য সভাপতি সৈয়ব আহমেদ কবিরকে প্রার্থী করেছেন হুমায়ুন। অন্য দিকে, কান্দিতে প্রার্থী হচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসির হায়দার।
সূত্রের খবর, হুমায়ুন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়া মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েক জন বিধায়কের অনুগামীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ফরাক্কার মনিরুল ইসলাম, জলঙ্গির আব্দুর রাজ্জাক, বেলডাঙার হাসানুজ্জামানের অনুগামীরা সেই তালিকায় রয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করেছেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, “তৃণমূলকে উচিত শিক্ষা দেওয়াই এখন লক্ষ্য। সেই কারণেই নতুন করে রণকৌশল সাজানো হয়েছে।” তাঁর দাবি, তৃণমূলের ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবিরের একটি বড় অংশ তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারে।
২২ মার্চ দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। শাসক শিবিরের টিকিট না-পাওয়া কত জন বিধায়ক নিলম্বিত তৃণমূল নেতা হুমায়ুনের ছাতার তলায় আসেন, সে দিকেই নজর রয়েছে স্থানীয়দের বড় অংশের। এর আগে কলকাতায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। তাদের সঙ্গে জোট গড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। যদিও তা ফলপ্রসূ হয়নি। সিপিএমের অন্দরে সেই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জোটের সম্ভাবনা বিশ বাঁও জলে পড়েছিল। তার পরে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কির সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবীর। সেই জোটও পাকেনি। এ বার ১৮২ আসলে প্রার্থী দিলেন হুমায়ুন।