মালতীপুরের প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
চলতি বছরের শুরুতে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন মৌসম বেনজির নূর। তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকেও ইস্তফা দেন মৌসম। মালদহের মালতীপুরে তাঁকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। সোমবার তিনি মনোনয়ন জমা দেন। প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন পেশের সময়সীমা সোমবারই শেষ হয়েছে।
কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরেই তিনি বলেছিলেন, ‘‘বাংলায় কংগ্রেসকে মজবুত করতে, পাশাপাশি প্রয়াত মামা গনিখান চৌধুরীর ঘরানার রাজনীতির ধারাকে বজায় রাখতেই তৃণমূল ছেড়ে আবার কংগ্রেসে ফিরে এলাম।” মৌসমের এই প্রত্যাবর্তনে মালদহ জেলা কংগ্রেসের একাংশ প্রাথমিক ভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। পরে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সুর বদল হয়েছে। সম্প্রতি মালতীপুরে নির্বাচনী সভায় মৌসমের নাম উল্লেখ না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মালদহের কোনও প্রতিনিধি লোকসভায় ছিল না বলে আমরা এই জেলার প্রতিনিধিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। অনেক দিন ছিলেন। ভোটের আগে তিনি অন্য দলে গিয়েছেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু পলাতকদের মানুষ ক্ষমা করবে না। উনি তো ভোটে লড়ে সাংসদ হতে পারেননি। বিধায়কদের ভোটে জিতেছিলেন। আমার ভোটও পেয়েছিলেন। নিজে জীবনে রাজ্যসভায় যেতে পারিনি। এত সুযোগ পাওয়ার পরেও দলের বিরোধিতা ভোটের সময়। ভোট যেন না পায়।’’
সম্পত্তি ও অর্থ
হলফনামায় মৌসম জানিয়েছেন, তিনি পেশায় আইনজীবী। তাঁর স্বামী মির্জ়া কায়েশ বেগও আইনজীবী। মৌসমের আয়ের উৎস মূলত বেতন এবং অন্যান্য ভাতা। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে মৌসমের বার্ষিক আয় ছিল ৭ লক্ষ ২৩ হাজার ৬০ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ১০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৯০ টাকা। তাঁর স্বামীর ২০২০-২১ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ৫৯০ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ৭ লক্ষ ১ হাজার ৭৫০ টাকা।
মৌসমের হাতে রয়েছে নগদ ৭৫ হাজার টাকা। তাঁর স্বামীর হাতেও রয়েছে নগদ ৭৫ হাজার টাকা। মৌসমের কাছে ১৭০ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে, যার মূল্য ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর স্বামীর কাছে রয়েছে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার সোনার গয়না। ওজন ২৫ গ্রাম। মৌসমের দু’টি স্করপিয়ো গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ২২ লক্ষ টাকা। তাঁর স্বামীর হাতে রয়েছে দু’টি গাড়ি, যার মূল্য ২১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫০৬ টাকা। মৌসমের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৪৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৮৮ টাকা। তাঁর স্বামীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪২ লক্ষ ২০ হাজার ৫৭১ টাকা।
মৌসম বা তাঁর স্বামীর নামে কোনও কৃষি বা বাস্তু জমি নেই। মৌসমের মোট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ১০ লক্ষ। তাঁর স্বামীর নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। ব্যাঙ্কে ৪২ লক্ষ টাকা ঋণ রয়েছে মৌসমের। তাঁর স্বামীর একটি ব্যাঙ্কে ১২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭৫৫ টাকার ঋণ রয়েছে।
অপরাধের রেকর্ড
হলফনামায় মৌসম জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কখনও কোনও থানায় এফআইআর রুজু হয়নি। আদালতেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা বিচারাধীন নয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
হলফনামা অনুসারে, মৌসম ২০০৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক হয়েছেন।