জাভেদ আখতার। ছবি: সংগৃহীত।
বলিউডের খ্যাতনামী গীতিকার-চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। ৮১ পূর্ণ করলেন শনিবার। ১৯৬৪ সালের ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে পা রাখেন। হাতে তখন কাজ, টাকাপয়সা, থাকার জায়গা — কিছুই ছিল না। নিজের কলমের উপরে ছিল আস্থা। নিজের গৃহহীন অবস্থা নিয়েও একাধিক কবিতা লিখেছেন। মুম্বইয়ে প্রথম মাথা গোঁজার সংস্থান হয়েছিল ১৯৭০ সালে, বান্দ্রা এলকায়। সেই সময় তাঁর বাংলোর দাম ছিল প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। যদিও সমুদ্রমুখী ওই বাংলোর বর্তমান মূল্য কয়েক কোটি।
১৯৭০ থেকে ৮০-র দশক জুড়ে সেলিম খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে বলিউডে রাজত্ব চালান জাভেদ। ‘সীতা অউর গীতা’, ‘শোলে’, ‘দিওয়ার’, ‘ডন’, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’-র ছবির চিত্রনাট্য তৈরি করেন তাঁরা। কিন্তু, ১৯৮২ সালে আলাদা হয়ে যায় তাঁদের পথ। যদিও আলাদা হয়েও দু’জনেই নিজেদের মত করে সাফল্য পেয়েছেন।১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত যথাক্রমে ‘সাজ’, ‘বর্ডার’ এবং ‘গড্মাদার’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জাভেদ। শুধু তা-ই নয়, ‘পদ্মভূষণ’ এবং ‘পদ্মশ্রী’ও পেয়েছেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে নাকি তিনি গান পিছু ১৫ লক্ষ টাকা করে পারিশ্রমিক নিতেন। সম্প্রতি, সেই পারিশ্রমিক বেড়ে হয়েছে ২৫ লক্ষ। শোনা যায়, জীবনের প্রথম দিকে ৫০ টাকা পারিশ্রমিকে চিত্রনাট্য লেখার কাজ শুরু করেন তিনি। ‘শোলে’ ছবির সাফল্যের পর থেকে সেলিম-জাভেদের চাহিদাপূরণ করতে শুরু করেন নির্মাতারা।
জীবনের একটা বড় সময় বান্দ্রার বাংলোতে কাটান জাভেদ। তার পরে ২০২১ সালে জুহু এলাকায় ১,১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনেন প্রায় ৭ কোটি টাকা দিয়ে। বর্তমানে বেশিরভাগ সময় সেই ফ্ল্যাটেই থাকেন। প্রায় ছয় দশকের সফল কর্মজীবনে ২০৬ কোটি টাকার সম্পত্তি তৈরি করেছেন। যার ৮০ শতাংশ তাঁর নিজের হলে, বাকি ২০ শতাংশে অধিকার রয়েছে তাঁর বর্তমান স্ত্রী শাবানা আজ়মির। নিজের অতীতের কথা মনে পড়লে এখনও আবেগতাড়িত হয়ে যান তিনি। যদিও বর্তমানে ছবির কাজ কমিয়েছেন জাভেদ। তবে এই মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে নিজের উপস্থিতির জানান দেন চিত্রনাট্যকার।