ফুসফুস ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাবেন কী ভাবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
ধূমপান করলে ফুসফুসে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু না করলে? ধূমপান করেন না, এমন মানুষও ফুসফুসের অসুখে ভুগছেন বা ভোগেন। বয়স হলে যে কোনও প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতায় কমে যায়, কিন্তু তার নেপথ্যে কিছু কারণও থাকে। দৈনন্দিন যাপনের অনেক অভ্যাস বা অনভ্যাসের কারণেও ফুসফুসের ক্ষতি হয়। কোন বিষয়গুলি নিয়ে সতর্ক হবেন?
ঘরের পরিবেশ: বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের ক্ষতি হয়। বিশেষত, ফুসফুসের উপর চাপ পড়ে। তবে শুধু বাইরের বাতাস নয়, ঘরের বাতাসের পরিশুদ্ধতা নিয়েও ভাবা দরকার। বিশেষত ঘরে যদি ধুলো, ময়লা থাকে, মশা মারার ধূপ জ্বালানো হয়, হাওয়া-বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা না থাকে, তা থেকেও ফুসফুসের ক্ষতি হয়। অথচ এই বিষয়গুলি নিয়ে তেমন ভাবে কেউ সচেতন হন না। ঘরের বাতাস শোধনের জন্য ইদানীং নানা রকম যন্ত্র পাওয়া যায়। বাতাসে দূষণের মাত্রা খুব বেড়ে গেলে, এই যন্ত্রও বাড়িতে রাখতে পারেন।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম: শ্বাস ঠিক ভাবে নেওয়া এবং ছাড়ার নিয়মটি অনেকেই হয়তো অনুসরণ করেন না। শ্বাস নেওয়া দরকার নাক দিয়ে, মুখ দিয়ে নয়। তা ছাড়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলেও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে। প্রাণায়াম ফুসফুস ভাল রাখতে সাহায্য করে।
লম্বা সময় এক জায়গায় বসে থাকা: একটানা চেয়ারে বসে কাজ করার অভ্যাস, কম হাঁটাচলার অভ্যাসও সমান ক্ষতিকর। দীর্ঘ ক্ষণ একইভাবে বসে থাকলে ফুসফুস সঠিক ভাবে প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পায় না, ফলে অক্সিজেন কম চলাচল করে। দিনের পর দিন ধরে এমন অভ্যাসে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি হয়।
ধোঁয়া: কলকারখানা, গাড়ি, উনুন, টায়ার পোড়ানো ধোঁয়া, বাজি এগুলি সবই ফুসফুসের পক্ষে ক্ষতিকর। বাড়িতে ধূপ জ্বালালে তা-ও ফুসফুসের কম ক্ষতি করে না। সুগন্ধী মোম, রুম ফ্রেশনার- এগুলি সবই বাদ দেওয়া উচিত, এতে রাসায়নিক থাকে যা স্বাস্থ্য-বান্ধব নয়। বাইরে গেলে ধোঁয়ার ক্ষতি কিছুটা এড়াতে মুখে মাস্ক পরা জরুরি।
শরীরচর্চার অভাব: হাঁটা, জগিং, ঘরের কাজকর্ম শুধু শরীর সচল রাখতে নয়, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। হালকা স্ট্রেচিংও ফুসফুসের ক্ষমতা ঠিক রাখতে সহায়ক।