জল ছাড়া আর কোন কোন পানীয় বয়স্কদের শরীর সুস্থ রাখবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
চড়া রোদ উঠুক বা বৃষ্টি পড়ুক, আবহাওয়ার ভোলবদলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শরীরে। বিশেষ করে বয়স্কদের এই সময়ে সাবধানে না রাখলে নানা রকম শারীরিক সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। সে কারণে চিকিৎসকেরা পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও তরল খাবার খেতে বলছেন। তবে আবহাওয়ার এই ভোলবদলের সময়ে শরীর সুস্থ রাখতে হলে শুধু জল নয়, রোজ খেতে হবে ডিটক্স ও ইলেকট্রোলাইট পানীয়। তা হলে শরীরে খনিজ উপাদানগুলির ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
শরীরে প্রধানত চারটি কাজের জন্য এই ইলেকট্রোলাইট প্রয়োজন— ১) পেশির শক্তি বৃদ্ধি, পেশির সঙ্কোচন ও প্রসারণে সাহায্য করা, ২) শরীরে জল ও খনিজ লবণের ভারসাম্য ধরে রাখা, ৩) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ৪) শরীরে পিএইচ ব্যালান্স , অর্থাৎ, অম্ল ও ক্ষারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। বয়সকালে শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ঘাটতি বেশি হয়। সে কারণেও ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রবীণেরা। তাই এমন পনীয় খেতে হবে যাতে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।
দারচিনি ও চক্রফুলের ক্বাথ
দারচিনি ও স্টার অ্যানিস বা চক্রফুলের মিশ্রণ হজমশক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে বহু গুণ। এই পানীয় গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও কমাবে। ১টি ছোট দারচিনির স্টিক দু’কাপ জলে ফোটাতে হবে। তাতে মিশিয়ে দিন একটি চক্রফুল। ভাল করে ফোটাতে হবে। পানীয়ের রং বদলে গেলে নামিয়ে নিন। ঈষদুষ্ণ অবস্থায় দুপুরে খাওয়ার ২০-৩০ মিনিট পরে পান করুন। এই পানীয় রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।
লেবু-মধুর ইলেকট্রোলাইট
খুবই সাধারণ ঘরোয়া উপায়ে এই পানীয় বানানো যায়। জ্বর বা পেটখারাপের সমস্যা হলে এক গ্লাস জলে একটি গোটা পাতিলেবু ও মধু মিশিয়ে নিন, তাতে মেশান এক চিমটে ব্ল্যাক সল্ট। এই পানীয় দিনে দু’বার খেলে শরীরে জলশূন্যতা হবে না।
ডাবের জল ও পুদিনার শরবত
পেটের যে কোনও সমস্যাতেই ডাবের জল খুবই উপকারী। তবে শুধু ডাবের জল নয়, পেটের রোগ থেকে বাঁচতে এর সঙ্গে মেশাতে হবে আরও কয়েকটি উপকরণ। পানীয়টি তৈরি করতে নিতে হবে ১ গ্লাস ডাবের জল, আধখানা পাতিলেবুর রস, ৫-৬টি টাটকা পুদিনাপাতা, এক চিমটে সৈন্ধব লবণ। ডাবের জলে লেবুর রস ও সামান্য নুন মিশিয়ে নিন। পুদিনাপাতাগুলি হাত দিয়ে সামান্য ঘষে জলে ফেলে দিন। থেঁতো করেও দিতে পারেন।