Michael Patrick Death

৩৫ বছর বয়সে বিরল মোটর নিউরন রোগে মৃত ‘গেম অফ থ্রোনস’ খ্যাত মাইকেল প্যাট্রিক, অসুখটি কী?

‘গেম অফ থ্রোনস’ খ্যাত আইরিশ তারকা মাইকেল প্যাট্রিকের মৃত্যু হয়েছে বিরল স্নায়ুর রোগে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে হাঁটাচলা, কথা বলার ক্ষমতা হারান তিনি। ধীরে ধীরে এই রোগ তাঁকে নিয়ে যায় মৃত্যুর পথে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৩
Game of Thrones actor Michael Patrick dies of severe motor neurone disease

হাঁটাচলা করার ক্ষমতা হারান মাইকেল, কী এই রোগ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বয়স মাত্র ৩৫। এর মধ্যেই হুইলচেয়ারে বন্দি হতে হয় ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর অভিনেতা মাইকেল প্যাট্রিককে। হাঁটাচলা করার ক্ষমতা হারান তিনি। কথা বলাও বন্ধ হয়েছিল এক সময়ে। ধীরে ধীরে স্নায়ুর এই ভয়াবহ রোগ তাঁকে নিয়ে যায় মৃত্যুর পথে।

Advertisement

মেরুদণ্ড ও স্নায়ুর এক বিরল রোগ ‘মোটর নিউরন ডিজ়িজ়’-এ আক্রান্ত হন মাইকেল। রোগটি বিরল। প্রতি ১ লক্ষে ১ শতাংশেরও কম জনের মধ্যে রোগটি হতে দেখা যায়। এর কোনও চিকিৎসাও তেমন ভাবে নেই। মেরুদণ্ড ও স্নায়ুর কোষগুলি নিজে থেকেই নষ্ট হতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে বাকি অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিতে। পেশির ক্ষয় হতে থাকে। হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। ভোকাল কর্ড বা স্বরযন্ত্রও নষ্ট হয়ে যায় কিছু দিনের মধ্যেই। ফলে রোগী যেমন হাঁটাচলা করার শক্তি হারান, তেমনই কথা বলার ক্ষমতাও বিলুপ্ত হতে থাকে। পঙ্গুত্ব গ্রাস করে অল্পদিনের মধ্যেই।

জটিল ও প্রাণঘাতী এই স্নায়ুর রোগটির সঙ্গে অ্যামিয়োট্রপিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা সংক্ষেপে এএলএসের বিস্তর মিল আছে। রোগটি কেন ও কী থেকে হতে পারে, তা নিয়ে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা দীর্ঘ সময় ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন। এ দেশে পাবমেড থেকে প্রকাশিত একাধিক গবেষণাপত্রে রোগটির ভয়াবহতা নিয়ে লিখেছেন গবেষকেরা। তাঁরা দাবি করেছেন, রোগটির সঙ্গে জিনের সংযোগ থাকতে পারে। জিনগত কারণেই রোগটি বাসা বাঁধে শরীরে। এই জিন পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও বাহিত হতে পারে।

মোটর নিউরন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই রোগে। এই স্নায়ুই মস্তিষ্ক থেকে শরীরের নানা পেশিতে সঙ্কেত বহন করে। পেশির সঙ্কোচন ও প্রসারণও নিয়ন্ত্রণ করে এই স্নায়ু। ফলে হাঁটাচলা করা, ওঠা বা বসার শক্তি পায় শরীর। এই স্নায়ু ক্ষয়ে যেতে থাকলে সবচেয়ে আগে পেশির সক্রিয়তা কমে যায়। ফলে পেশির সঙ্কোচন-প্রসারণ বন্ধ হয়ে গিয়ে হাঁটাচলা করার ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হতে থাকে। সবচেয়ে দুর্ভাবনার বিষয়, রোগটির কোনও প্রমাণিত চিকিৎসা নেই। যেটুকু দেশ-বিদেশে করা হয়, সবই পরীক্ষামূলক। তাই হয়তো ক্যানসারের চেয়েও এ রোগটি বিপজ্জনক।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, যাঁদের পরিবারে আগে এএলএস বা ওই জাতীয় স্নায়ুর জটিল রোগের ইতিহাস আছে অথবা পরিবারের কেউ ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশে ভুগছেন, তাঁদের কিছু জিনগত পরীক্ষা করিয়ে রাখা ভাল। কী ধরনের পরীক্ষা করাতে হবে, তা রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রোগের ইতিহাস দেখেই স্থির করবেন চিকিৎসক।

Advertisement
আরও পড়ুন