Ebola Epidemic warning

ইবোলা কি ফের ছড়াচ্ছে? কেন বিশ্ব জুড়ে সতর্কতা জারি করল হু, কতটা ভয়াবহ এই ভাইরাস?

পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে ফের ভয়াবহ হয়ে উঠেছে ইবোলা ভইরাস। ইতিমধ্যেই কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে মৃত ১১৮, আক্রান্ত তিনশোরও বেশি। এর পরেই ইবোলা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ভারতে ভয় কতটা?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১১:৩৮
Ebola Alert, global scare grows after WHO outbreak warning

ভারতে ইবোলার ভয় কতটা, কেন এই ভাইরাস নিয়ে ফের উদ্বিগ্ন হু? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের হানার পরে ফের ইবোলা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। রোগের সূত্রপাত জ্বর। সেই সঙ্গে চোখ-নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ, গায়ে ব্যথা, মাথার যন্ত্রণা আর পেট খারাপ। এ ভাবে কয়েক সপ্তাহ চলার পরই মৃত্যু। রোগের নাম ইবোলা ভাইরাস ডিজ়িজ় (ইভিডি)। এই ভাইরাস সংক্রমণ নিয়েই এখন উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। তাই পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে হু। এই সতর্কতা কেবল আফ্রিকায় নয়, জারি হয়েছে বিশ্ব জুড়েই।

Advertisement

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার হানায় ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১৮ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সংক্রমিত তিনশোরও বেশি। ভারতে এখনও পর্যন্ত ইবোলা ভাইরাস ছড়ানোর কথা জানা যায়নি। তবুও সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলি থেকে সারা পৃথিবীতে লোকজন যাওয়া-আসা করছেন অনবরত। এই যাতায়াত কোনও ভাবেই বন্ধ করা যায় না। সেখানে অনেক ভারতীয়েরাও থাকেন। তাই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এই ভাইরাস যেহেতু মারাত্মক ছোঁয়াচে, সামান্য হাঁচি-কাশি থেকেই তা অন্যদের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই সংক্রমণ খুব দ্রুত ঘটতে পারে। এই রোগে মৃত্যুর হারও আর পাঁচটা ভাইরাস ঘটিত রোগের থেকে বেশি।

কতটা ভয়াবহ ইবোলা?

প্রায় চার দশক আগে ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলার প্রকোপের কথা জানতে পারা যায়। তার পর থেকে এ পর্যন্ত বহু বার আঘাত হেনেছে এই রোগ। কিন্তু প্রতি বারই আফ্রিকার ভিতরের দিকের দেশগুলিতেই তার প্রকোপ সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকদের মতে, যথাযথ পরিকাঠামো থাকলে অনেক আগেই ইবোলাকে নিয়ন্ত্রণ করা যেত। কিন্তু আফ্রিকার এই দেশগুলিতে সেই পরিকাঠামো না থাকায় এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইবোলা। পরবর্তী পড়শি দেশগুলিতেও ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

ভাইরাসটির মূল বাহক এক প্রজাতির ফলখেকো বাদুড়। তারা ভাইরাসটি বহন করে, তবে নিজেরা আক্রান্ত হয় না। পরে ওই বাদুড় থেকে বিভিন্ন প্রাণীর দেহে রোগটির সংক্রমণ ঘটে। আর কোনও ভাবে কেউ আক্রান্ত প্রাণীদের মাংস খেয়ে ফেললে বা সংস্পর্শে এলেই ইবোলা ভাইরাসটি অজান্তেই ঢুকে পড়ে তার শরীরে। তার পর সেই মানুষটির রক্ত বা দেহরস (যেমন হাঁচি, কাশি) থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে অন্য মানুষের দেহে। ইবোলার সংক্রমণ হলে শুরুতে জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের সংক্রমণ হয়, ধীরে ধীরে হার্ট, লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একাধিক অঙ্গ বিকল হতে থাকে। শেষে মৃত্যু ঘটে রোগীর।

ইবোলায় আক্রান্ত হলে রোগীকে নিভৃতবাসে রেখে চিকিৎসা করা হয়। এর কিছু টিকা বর্তমান সময়ে এলেও সেগুলি নিয়ে এখনও গবেষণা জারি আছে। ইবোলার সংক্রমণ খুব দ্রুত ঘটে। তাই বিপদের আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা। আফ্রিকা থেকেই প্রতিদিন বহু মানুষ এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। আগাম সতর্কতা হিসাবে পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি’ এবং দিল্লির ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল’-কে পরিকাঠামো বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন