Xenotransplantation

শূকরের দুই কিডনি, আস্ত লিভার বসল মানুষের শরীরে, এত অঙ্গ একসঙ্গে এই প্রথম

চিনে এক ব্যক্তির শরীরে একই সঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি ও আস্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সেই সব অঙ্গ টানা পাঁচ দিনের বেশি কাজও করেছে বলে দাবি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৮:৫৯
How Chinese Scientists Successfully Transplanted Pig Kidneys and Liver into a Human Body

কেন শূকরের অঙ্গই বসানো হচ্ছে মানুষের শরীরে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

২০২২ সালে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে প্রথম শূকরের হৃদ্‌পিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল মানুষের শরীরে। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ষাটোর্ধ্ব রিচার্ড স্লেম্যানের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল প্রথম বার। সেই কিডনি নিয়ে রিচার্ড বেঁচেও ছিলেন বেশ কিছু দিন। যদিও শেষ পর্যন্ত শূকরের কিডনি প্রাপকের মৃত্যু হয়েছিল অঙ্গ বিকল হয়ে। তবুও প্রচেষ্টা বন্ধ হয়নি। প্রাণীর শরীর থেকে নেওয়া অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের যে চেষ্টা চলছে গত কয়েক বছর ধরে, তাতে আশার আলো দেখিয়েছ সাম্প্রতি এক গবেষণা। চিনে এক ব্যক্তির শরীরে একই সঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি ও আস্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সেই সব অঙ্গ টানা পাঁচ দিনের বেশি কাজও করেছে বলে দাবি।

Advertisement

চিনের গুয়াংশি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জিনগত ভাবে পরিবর্তিত শূকরের দু’টি কিডনি ব্রেন ডেড হওয়া এক ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। সেই ব্যক্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে ভুগছিলেন, তাঁর দুই কিডনিও বিকল হয়ে গিয়েছিল। গবেষকেরা দাবি করেছেন, শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে সেই ব্যক্তির শরীর সাড়াও দেয়। তার পরে শূকরের লিভারও প্রতিস্থাপন করা হয় তাঁর শরীরে। এই প্রথম বার শূকরের শরীর থেকে নেওয়া একাধিক অঙ্গ একসঙ্গে একই মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হল এবং তা টানা কয়েক দিন কাজও করেছে বলে দাবি।

হার্ট, কিডনি বা লিভার প্রতিস্থাপন যথেষ্টই ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্রোপচার ঠিকমতো না হলে তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান বা ‘হাইপারঅ্যাকিউট রিজ়েকশন’ হয়ে যায়। অথবা প্রতিস্থাপনের পরেই তরল জমা হতে শুরু শরীরের নানা অঙ্গে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার এক বারেই সফল হয়। এই গবেষণা আগামী দিনে জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলেই দাবি চিনা গবেষকদের। সেই সঙ্গে অঙ্গদানের প্রতিবন্ধকতাও ঘুচবে।

‘জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’ কী? কেন বেছে নেওয়া হচ্ছে শূকরকেই?

মানুষের দেহে কোনও পশুর অঙ্গ বা কোষ প্রতিস্থাপন করার পদ্ধতিকে ‘জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্ট’ বলা হয়। সাধারণত মানুষের শরীর অন্য কোনও প্রাণীর অঙ্গ সহজে গ্রহণ করতে চায় না। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তা করতে দেয় না। সেই অঙ্গটিকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং নষ্টও করে দেয়। তাই পশুর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করতে হলে, তাতে জিনগত বদল ঘটানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অঙ্গ সঙ্কটের সমস্যা দূর করতে গবেষকেরা শূকরকেই দাতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কারণ, শূকরের কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার ও জিনের সঙ্গে মানুষের জিনগত মিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বানর, শিম্পাঞ্জির মতো প্রাইমেটদের সঙ্গে মানুষের মিল বেশি হলেও তাদের অঙ্গ নেওয়া বা তাদের নিয়ে গবেষণা করায় অনেক আইনত জটিলতা রয়েছে। তা ছাড়া প্রাইমেটদের থেকে ভাইরাস সহজেই মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে, যা শূকরের ক্ষেত্রে হয় না।

তবে শূকরকে দাতা হিসেবে বেছেও সন্তুষ্ট থাকেননি গবেষকেরা। তাঁরা মানুষের শরীর থেকে কিছু জিন বাছাই করে তা শূকরের শরীরে ঢুকিয়েছেন। তার পর কঠোর পর্যবেক্ষণে রেখে সেই শূকরকে গবেষণাগারে বড় করেছেন। তার পর সেই শূকরের অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করে দেখেছেন তা মোটামুটি ভালই কাজ করছে। যদিও অঙ্গগুলির কার্যকারিতা দীর্ঘ সময়ে স্থায়ী হয়নি এখনও। তবে আগামী দিনে জিনে আরও কিছু বদল ঘটিয়ে তা সম্ভব হবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন