Yoga Benefits

ধোঁয়া-ধুলোয় ফুসফুস বেহাল, শ্বাসের সমস্যা ঘরে ঘরে, সুস্থ থাকতে রোজ অভ্যাস করতে পারেন বকাসন

বাতাসে ভাসমান অতিসূক্ষ্ম কণা এই সময় শ্বাসের সঙ্গে শরীরের প্রবেশ করে। সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পক্ষে তা ক্ষতিকর তো বটেই, বিপজ্জনক হয়ে ওঠে ফুসফুসের অসুখ, হাঁপানি রয়েছে, এমন রোগীদের জন্য। কী ভাবে তা থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করা সম্ভব?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১২:০৪
What are the health benefits of Bakasana or Crane Pose

সিওপিডি, হাঁপানির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে যোগাসনের এক বিশেষ পদ্ধতি। চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।

ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর। শ্বাসের সমস্যাও হচ্ছে। পরিবেশে দূষণ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে শ্বাসকষ্টের সমস্যা। রাস্তায় বেরোলে ধুলো-ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাসের জেরে ফুসফুসের নানা রোগ হচ্ছে। বাড়ছে হাঁপানির টান, সিওপিডির সমস্যা। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট, কাশি, শ্বাস নিতে গেলেই বুকে যন্ত্রণা, রাতে এই সমস্যা উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়া— এই হল হাঁপানি ও সিওপিডির মতো রোগের মূল উপসর্গ। এ সমস্যা কেবল ওষুধ খেয়ে সারে না। কারণ, প্রতি বার শ্বাস নেওয়ার সময়ে বাতাসে ভাসমান দূষিত কণা শ্বাসনালি দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। তাই ফুসফুস ভাল রাখতে ওষুধের পাশাপাশি ব্যায়াম করাও জরুরি। এমন কিছু ব্যায়াম করতে হবে, যা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। ভারতীয় যোগাসনের এক খুব প্রাচীন পদ্ধতি হল বকাসন। সেটি নিয়মিত অভ্যাস করতে পারলে শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বাড়বে, ফুসফুসে অধিক অক্সিজেন সরবরাহ হবে।

Advertisement

বকাসনক ‘ক্রেন পোজ়’ বলা হয়। যোগাসন প্রশিক্ষকেরা বলেন, এই আসনটি করলে সারা শরীরের ব্যায়াম হয়, ভারসাম্যও বাড়ে।

কী ভাবে করবেন?

১) প্রথমে ম্যাটের উপর উবু হয়ে বসতে হবে। দুই পায়ের মধ্যে ব্যবধান রাখবেন।

২) গভীর ভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। মন স্থির হলে দুই হাতের তালু মাটিতে রাখুন শক্ত করে। এই হাতের উপরেই শরীরের ভার দিতে হবে।

৩) এর পর পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে গোটা শরীরই ধীরে ধীরে সামনের দিকে টেনে আনুন। শরীর যেন খুব বেশি ঝুঁকে না যায়।

৪) দৃষ্টি সামনের দিকে রেখে হাতের তালুতে ভর দিয়ে দুই পায়ের পাতা মাটি থেকে তুলতে হবে। যতটা সম্ভব পিছন থেকে পা তোলা চেষ্টা করতে হবে।

৫) শুরুতে দুই পায়ের পাতা খানিকটাই উঠবে। সে ভাবেই ১০-২০ সেকেন্ড থাকার চেষ্টা করতে হবে। এর পর অভ্যাস হয়ে গেলে আরও খানিকটা তোলার চেষ্টা করবেন। ৩০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।

উপকারিতা:

বুকের পেশিগুলির সক্রিয়তা বাড়বে, শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার প্রক্রিয়াটি সহজতর হবে।

দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাসকষ্টে ভোগেন, হাঁপানির টান ওঠে বা সিওপিডিতে কষ্ট পান, এমন রোগীরা এই আসনটি অভ্যাস করতে পারলে সুফল পাবেন।

শরীরের ভারসাম্য বাড়বে, হাত ও পায়ের পেশির জোর বাড়বে।

সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে, পিঠ-কোমরে ব্যথা থাকলে তা কমে যাবে।

নিয়মিত অভ্যাসে মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়বে, স্নায়ুর রোগের ঝুঁকি কমবে।

কারা করবেন না?

স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যা থাকলে আসনটি করা যাবে না।

কব্জিতে ব্যথা, টান ধরে বা কার্পল টানেল সিনড্রোমের মতো রোগ থাকলে আসনটি না করাই ভাল।

হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন