A1 vs A2 Milk

এ১ দুধ ভাল না এ২? দুধেরও বৈচিত্র আছে, কোনটি কেনেন দোকান থেকে? কোনটিই বা বেশি উপকারী?

বাড়িতে কোন দুধ বেশি খান? দুধেরও রকমফের আছে। ইদানীং এ১ এবং এ২ দুধ নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। এদের মধ্যে পার্থক্য কী? কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৩:১৩
What Is the Difference between A1 and A2 Milk, which one is better for you

এ১ এবং এ২ দুধ কী, কোনটি বেশি খাওয়া হয়? ফাইল চিত্র।

দোকান থেকে দুধের প্যাকেট কিনে আনার সময়ে কি খেয়াল করেন যে, এ১ দুধ খাচ্ছেন, না এ২? অধিকাংশই তা করেন না। দুধেরও নানা বৈচিত্র রয়েছে। তার পুষ্টি উপাদানের উপর ভিত্তি করে দুধের বিভিন্ন প্রকার সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছে এ১ এবং এ২ দুধ। মনে হতেই পারে, এগুলি আবার কী? এদের মধ্যে পার্থক্যই বা কোথায়?

Advertisement

এ১ বনাম এ২ দুধ

এ১ দুধের ঘনত্ব বেশি, এ২ দুধ ততটা গাঢ় নয়। সাধারণত এ দেশের বেশির ভাগ ঘরে এ২ দুধই বেশি খাওয়া হয়। দোকান থেকে যে দুধ কিনে আনেন তা মূলত এ২ দুধ। সাধারণত পশ্চিমি দেশে বাণিজ্যিক ভাবে যে দুধ তৈরি হয়, তা এ১ দুধ। হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু থেকে এমন দুধ পাওয়া যায়। মূলত হাইব্রিড গরুর থেকে এ দুধ তৈরি হয়। এ দেশেরও নানা ডেয়ারি ফার্মে এখন বাণিজ্যিক ভাবে এ১ দুধ তৈরি করা হচ্ছে। আর এ২ হল দেশি গরুর দুধ। দুই দুধের পুষ্টি উপাদানের পার্থক্য রয়েছে, ফারাক রয়েছে দামেও। এ১ দুধের দাম অনেকটাই বেশি, অনেক বেশি ঘন, তুলনায় এ২ দুধের দাম কম এবং ঘনত্ব অতটা বেশি নয়।

দুধের নামের এই বৈচিত্রের কারণ হল এর মধ্যে থাকা প্রোটিন। দুধের প্রোটিন মূলত দু’প্রকারের— কেসিন এবং ওয়েই প্রোটিন। কেসিন প্রোটিনের একটি ভাগ বিটা-কেসিন, যার আবার দু’টি ভাগ। এ১ দুধে থাকে এ১ বিটা-কেসিন এবং এ২ দুধে থাকে এ২ বিটা-কেসিন। এই প্রোটিনের কারণেই দুই দুধের পুষ্টির মধ্যে পার্থক্য হয়ে যায়। তা কী রকম?

এ১ বিটা-কেসিন যা এ১ দুধে থাকে তা হজম হতে দেরি হয়। এই প্রোটিন বিপাকের সময়ে বিসিএম-৭ নামে এক ধরনের পেপটাইড বা যৌগ তৈরি হয়। এই পেপটাইড সকলের জন্য উপকারী নয়। পেটে গিয়ে তা গ্যাস-অম্বল, পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়েরিয়ার সমস্যাও হতে পারে। যাঁদের হজমশক্তি খুব কম ও অম্বলের ধাত বেশি, তাঁদের জন্য এ১ দুধ উপকারী না-ও হতে পারে। এতে হজমের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তবে যদি হজমশক্তি খুব ভাল হয়, তা হলে ঘন এ১ দুধ খাওয়া যেতেই পারে। শরীর দুর্বল হলে বা কোনও জটিল রোগ থেকে উঠে শরীরের জোর ফেরাতে এমন দুধ খেতেই পারেন।

এ২ দুধ অনেক হালকা। ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ এই দুধ দ্রুত হজম হয় এবং পেট ফাঁপার সমস্যাও হয় না। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বেশি হলে বা লিভারের রোগ থাকলে এ২ দুধই খাওয়া ভাল। শিশু ও বয়স্কদের জন্যও এই দুধ উপকারী। যাঁরা প্রক্রিয়াজাত বা হাইব্রিড জাতের গরুর দুধের চেয়ে প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত দেশি গরুর খাঁটি দুধ বেশি পছন্দ করেন, তাঁরা এ২ দুধই বেছে নিতে পারেন।

Advertisement
আরও পড়ুন