বাবু হয়ে বসলে যন্ত্রণা হয় কেন জানেন? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
বাবু হয়ে বসেই আরাম বটে। কিন্তু কখনও সখনও পা গুটিয়ে বসাই যন্ত্রণাদায়ক হয়ে যেতে পারে। অনেকেই মনে করেন, পা গুটিয়ে বসতে গিয়ে ব্যথা হওয়া মানেই বয়সের প্রভাব। কিন্তু অস্থিরোগ চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভঙ্গি, পেশির আড়ষ্ঠতা বা শরীরের নমনীয়তাই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক উপায়ে বসলে এই অস্বস্তির অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
বাবু হয়ে বসতে চাইলে, মানতে হবে কিছু নিয়ম। ছবি: সংগৃহীত
বাবু হয়ে বসলে হাঁটুতে ব্যথা হতে থাকে? ঘাড়ে বা পিঠেও ব্যথা ছড়িয়ে যায়? এমনকি কোমরেও অসুবিধা হয়? কেবল বয়সজনিত রোগ নয়, নতুন ধরনের যাপনের জেরে শরীরে নানা রকম পরিবর্তন আসছে। বাবু হয়ে বসার পর ব্যথা হলে, তার সঙ্গে যোগ রয়েছে জীবনযাত্রারও। চিকিৎসকদের মতে, এর একটি বড় কারণ হল, চেয়ার ছাড়া বসার অভ্যাস কমে আসছে মানুষের। নয়তো প্রাচীন কাল থেকে বাবু হয়ে বসার আরামদায়ক এই চল হঠাৎ অসুবিধায় ফেলবে কেন? এখন অধিকাংশ সময়েই চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ। তার বাইরে গাড়ি চালানো বা গাড়িতে উঠে বসে থাকা, আর ব্যায়ামের কোনও সম্পর্কই নেই। এর ফলে ধীরে ধীরে শক্তি হারায় পেশি, অস্থিসন্ধি। পেশির সক্রিয়তা না বাড়ালে মেঝেতে বসা ও ওঠা বড়ই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। মনে রাখবেন, স্থূলত্ব, বয়সবৃদ্ধি, আড়ষ্ঠ নিতম্ব, আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ ধরে যেতে পারে এমন যাপনের কারণেই।
সঠিক ভাবে বাবু হয়ে বসার নিয়ম কী?
১. অস্থিরোগ চিকিৎসকের মতে, পা গুটিয়ে বাবু হয়ে বসার সময়ে সবচেয়ে সাধারণ ভুল, শরীরকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দেওয়া। অনেকেই অজান্তে কাঁধ নামিয়ে কুঁজো হয়ে বসেন। এর ফলে মেরুদণ্ড, ঘাড় এবং কোমরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
২. বসার সময়ে মেরুদণ্ড যতটা সম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করা উচিত। কাঁধ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে, বুক সামান্য বাইরের দিকে থাকবে এবং মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে থাকবে না।
৩. অনেকেই মনে করেন, পা গুটিয়ে বসার সঙ্গে শুধু হাঁটুর সম্পর্ক রয়েছে। আদপে নিতম্বের নমনীয়তাও এখানে বড় ভূমিকা পালন করে। নিতম্ব শক্ত হয়ে গেলে শরীর সঠিক ভাবে বসতে পারে না। তখন হাঁটু এবং কোমরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। নিয়মিত স্ট্রেচিং এবং হালকা শারীরচর্চা নিতম্বের নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
৪. মেঝেতে সরাসরি বসতে অসুবিধা হলে একটি পাতলা কুশন বা ভাঁজ করা চাদরের উপর বসা যেতে পারে। এতে নিতম্ব কিছুটা উঁচুতে থাকে এবং হাঁটু ও কোমরের উপর চাপ কমে।
৫. সঠিক ভঙ্গিতে বসলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই অবস্থায় থাকা ভাল নয়। দীর্ঘ ক্ষণ বসে থাকলে পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং রক্তসঞ্চালনেও প্রভাব পড়তে পারে। প্রতি ১৫-২০ মিনিটে বসার ভঙ্গি পাল্টাতে হবে, যাতে পায়ের এক জায়গায় বেশি ক্ষণ চাপ না পড়ে।